বিয়ে মানুষের জীবনের একটি স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন।ইসলামে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং মহান আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত বিধান। সৃষ্টিগতভাবেই নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। একজনকে ছাড়া অন্যজনের জীবন পূর্ণতা পায় না। বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে মানুষের একাকীত্ব দূর হয় এবং পারিবারিক জীবনে আসে ভালোবাসা, প্রশান্তি ও স্থিতি।
মানবজীবনে বিয়ের গুরুত্ব ইসলামে অত্যন্ত গভীর। আল্লাহ তাআলা হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর তাঁর জন্য হজরত হাওয়া (আ.)-কে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে সৃষ্টি করেন এবং তাদের বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ করেন। সেই থেকেই মানবজাতির মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,‘আর তাঁর (আল্লাহ) নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।’(সুরা রুম, আয়াত : ২১)
অনেকেই জানতে চান, এমন কোনো আমল আছে কি, যার মাধ্যমে দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা সহজ হতে পারে অথবা উত্তম জীবনসঙ্গী লাভের তাওফিক পাওয়া যায়। এ বিষয়ে ইসলামী স্কলাররা কোরআন-সুন্নাহ থেকে বিভিন্ন আমলের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে কোরআনে বর্ণিত দুটি দোয়া বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ।
যে দোয়ায় উত্তম জীবনসঙ্গী লাভের আশা করা যায়
পবিত্র কোরআনে হজরত মুসা (আ.)-এর জীবনের একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। সেখানে তাঁর একটি দোয়ার উল্লেখ রয়েছে। এই দোয়ার পর মহান আল্লাহ তাঁর জন্য আশ্রয়, জীবিকার ব্যবস্থা এবং পরবর্তীতে উত্তম জীবনসঙ্গিনীর ব্যবস্থা করে দেন।
ﺭَﺏِّ ﺇِﻧِّﻲ ﻟِﻤَﺎ ﺃَﻧْﺰَﻟْﺖَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻣِﻦْ ﺧَﻴْﺮٍ ﻓَﻘِﻴﺮٌ
উচ্চারণ:রাব্বি ইন্নি লিমা- আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।
অর্থ:হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবেন, আমি তারই মুখাপেক্ষী। (সুরা আল-কাসাস, আয়াত : ২৪)
চক্ষুশীতলকারী জীবনসঙ্গী লাভের দোয়া
পবিত্র কোরআনে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা নিজেদের স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য কল্যাণ ও প্রশান্তির দোয়া করেন। এই দোয়াটি প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻫَﺐْ ﻟَﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟِﻨَﺎ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّﺎﺗِﻦَﺍ ﻗُﺮَّﺓَ ﺃَﻋْﻴُﻦٍ ﻭَﺍﺟْﻌَﻠْﻨَﺎ ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﺇِﻣَﺎﻣًﺎ
উচ্চারণ:রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিওঁ, ওয়াজআলনা লিলমুত্তাকিনা ইমামা।
অর্থ:হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শস্বরূপ বানিয়ে দিন। (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৭৪)