জাতীয়

কোনটায় দাম কত বাড়ল জ্বালানি তেল নিতে আজ থেকে গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা

  প্রতিনিধি ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৬:৩৫:১০ প্রিন্ট সংস্করণ

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে, যা আজ থেকে কার্যকর হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হবে ১১৫ টাকায়, যা আগে ছিল ৯৯ টাকা—অর্থাৎ প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি। কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩০ টাকা। অকটেনের মূল্য ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল। এবার সেই সীমা অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়ল জ্বালানি তেলের মূল্য।

অন্যদিকে, বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে ইতোমধ্যে সরবরাহ বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিপিসির তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় দেশে জ্বালানির চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বাজারে যে অতিরিক্ত চাহিদা দেখা যাচ্ছে তা পুরোপুরি যৌক্তিক নয় এবং সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও এক পর্যায়ে হরমুজ প্রণালি চালু রাখার ঘোষণায় দাম কিছুটা কমে প্রায় ৯০ ডলারে নেমে আসে, তবে পুনরায় তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন ডিজেল মজুত রয়েছে এবং পথে থাকা জাহাজে আরও ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল আসছে। পাশাপাশি পেট্রল ও অকটেনের মজুতও সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে বিপিসি। আজ থেকে ডিজেলের দৈনিক সরবরাহ ১১ হাজার ১০৭ টন থেকে বাড়িয়ে ১৩ হাজার ৪৮ টন এবং অকটেনের সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন থেকে আরও ২৩৭ টন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। ফলে এর মূল্য বৃদ্ধি গণপরিবহন, কৃষি এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content