লাইফস্টাইল

ভুঁরিভোজের আনন্দের মধ্যেও শরীরকে সতেজ ও ঠান্ডা রাখতে সহায়ক যেসব খাবার।

  নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল ডেক্স ২৩ মে ২০২৬ , ৩:৩৬:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতীকী ছবি।

বাংলাদেশে ঈদুল আজহা মানেই পরিবার-স্বজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি, অতিথি আপ্যায়ন এবং গরু-খাসির মাংসের বাহারি পদ। কোরবানির ঈদে কয়েকদিন ধরেই প্রায় প্রতিটি ঘরে ভুনা, কাবাব, রেজালা, কালাভুনা কিংবা ঝাল মাংসের আয়োজন থাকে। তবে এবার ঈদ এসেছে তীব্র গরমের সময়ে। ফলে অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার কারণে শরীরে অস্বস্তি, গ্যাস্ট্রিক, বদহজম, পানিশূন্যতা কিংবা অতিরিক্ত গরম অনুভূতির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তাই ঈদের খাবারের আনন্দ বজায় রাখার পাশাপাশি শরীরকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে খাদ্যতালিকায় কিছু উপকারী খাবার যোগ করা প্রয়োজন।

১. ডাবের পানি: প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের উৎস
গরমের সময় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। ডাবের পানি দ্রুত শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি কমায়। ভারী খাবারের পর এক গ্লাস ডাবের পানি শরীরে স্বস্তি এনে দিতে পারে।

২. দই-ছোলা চাট
সেদ্ধ ছোলা, ঠান্ডা দই, পেঁয়াজ, টমেটো ও হালকা মসলার মিশ্রণে তৈরি এই খাবারটি যেমন পুষ্টিকর, তেমনি শরীর ঠান্ডা রাখতেও সহায়ক। ঈদের সকালের নাস্তা কিংবা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে এটি হতে পারে ভালো একটি পছন্দ।

৩. তরমুজ ও বাঙ্গি
ঈদের মৌসুমে বাজারে সহজেই পাওয়া যায় তরমুজ ও বাঙ্গি। এসব ফলে পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। মাংসের ভারী খাবারের ফাঁকে এসব ফল খেলে শরীর অনেকটা হালকা অনুভূত হয়।

৪. আমের কুলফি
পাকা আমের পাল্প, দুধ ও শুকনো ফল দিয়ে তৈরি আমের কুলফি ঈদের ভরপেট খাবারের পর চমৎকার একটি ডেজার্ট হতে পারে। এর ঠান্ডা ও মিষ্টি স্বাদ শরীরে প্রশান্তি এনে দেয়। ঘরে থাকা আম দিয়েই সহজে তৈরি করা যায় এই খাবার।

৫. পুদিনা-লেবুর শরবত
সহজেই তৈরি করা যায় এমন স্বাস্থ্যকর পানীয়গুলোর মধ্যে পুদিনা-লেবুর শরবত অন্যতম। এটি শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি হজমেও সহায়তা করে এবং গরমের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। কোমল পানীয়ের পরিবর্তে এমন প্রাকৃতিক পানীয় শরীরের জন্য বেশি উপকারী।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

* একবারে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো
* পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে
* অতিরিক্ত ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার কম খাওয়া উচিত
* সফট ড্রিংকসের বদলে প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নেওয়া ভালো
* দুপুরের অতিরিক্ত গরমে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা যেতে পারে

ঈদ আনন্দ ও উৎসবের সময় হলেও শরীরের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটু সচেতন খাদ্যাভ্যাস গরমের এই ঈদকে আরও আরামদায়ক, স্বাস্থ্যকর ও উপভোগ্য করে তুলতে পারে।

আরও খবর

Sponsered content