প্রতিনিধি ১ মে ২০২৬ , ৫:২৩:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর বোরোধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাওর এলাকার কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, অবিরাম বৃষ্টিপাতে হাওরাঞ্চলের নিম্নভূমি প্লাবিত হয়ে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমি ডুবে গেছে। এর মধ্যে ইটনা উপজেলায়ই প্রায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ধান কাটতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা।
নিকলী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও তার আগের দিন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৬০ মিলিমিটার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কিছুটা রোদ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমার ১১৪ থেকে ৩৯৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

তবে টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে হাওরাঞ্চলের বোরোধানের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, ‘করিমগঞ্জের চামড়াঘাট এলাকায় মগড়া নদীর পানি গতকাল ৬৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও আজ তা ২ সেন্টিমিটার কমেছে। ইটনার ধনু-বৌলাই নদীতে গতকাল ৪৯ সেন্টিমিটার পানি বাড়লেও আজ বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামের কালনী নদীতে গতকাল ৬৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধির পর আজ মাত্র ১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ভৈরবের মেঘনা নদীর পানিও এখন কমার প্রবণতা দেখাচ্ছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে। এর মধ্যে ইটনা উপজেলাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।’
অন্যদিকে অতিবৃষ্টির প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজি ক্ষেতেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।





