লাইফস্টাইল

অবহেলা করলেই বিপদ,গরমে শরীরের কিছু সতর্ক সংকেত

  প্রতিনিধি ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ৬:৩৫:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রচণ্ড গরম শুধু অস্বস্তিই বাড়ায় না, শরীরের জন্য তৈরি করে মারাত্মক ঝুঁকি। ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

প্রচণ্ড গরম শুধু অস্বস্তিই বাড়ায় না, শরীরের জন্য তৈরি করে মারাত্মক ঝুঁকি। ফাইল ছবি (সংগৃহীত

গ্রীষ্মের তীব্র গরম যেন প্রতি বছরই নতুন করে মানুষের শরীরকে পরীক্ষার মুখে ফেলে। তাপমাত্রা যত বাড়ে, শরীরের ওপর চাপও ততই বৃদ্ধি পায়। বাইরে রোদে বের হলেই ক্লান্তি, অস্বস্তি বা ঘাম হওয়াকে আমরা সাধারণ ঘটনা বলেই ধরে নিই। কিন্তু এই স্বাভাবিক মনে হওয়া লক্ষণগুলোর মধ্যেই অনেক সময় লুকিয়ে থাকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত। তাই গরমে শরীরের ছোট ছোট সংকেতও গুরুত্ব দিয়ে বোঝা প্রয়োজন।

প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে আগে যে সমস্যা দেখা দেয়, তা হলো পানিশূন্যতা। শরীর থেকে যখন অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যায়, তখন মুখ শুকিয়ে আসে, গলা খসখসে লাগে এবং অস্বাভাবিক তৃষ্ণা অনুভূত হয়। প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া বা স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়াও এই সমস্যার লক্ষণ। অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এখান থেকেই বড় ধরনের জটিলতা শুরু হতে পারে। কারণ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, আর এর ঘাটতি মানেই শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া।

এর সঙ্গে যদি মাথা ঘোরা, ঝিমুনি ভাব বা হঠাৎ অতিরিক্ত ক্লান্তি যুক্ত হয়, তাহলে বুঝতে হবে শরীর আর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। অনেক সময় দেখা যায়, কেউ হঠাৎ দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না, চোখে অন্ধকার দেখছেন বা মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না—এসবই তাপজনিত সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

ঘাম নিয়েও একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে। আমরা ভাবি, বেশি ঘাম হওয়া মানেই শরীর ঠিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু অতিরিক্ত ঘাম যেমন বিপদের লক্ষণ হতে পারে, তেমনি হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়াও সমানভাবে উদ্বেগজনক। শরীর যখন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং ঘাম ঝরা বন্ধ হয়, তখন তা তাপঘাতের (হিটস্ট্রোক) দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এ সময় ত্বক লালচে হয়ে যেতে পারে, শরীর অস্বাভাবিক গরম লাগে এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।

এছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে বমিভাব, পেশিতে টান বা পেটে অস্বস্তির মতো উপসর্গও দেখা যায়। এগুলো অনেক সময় সাধারণ গ্যাস্ট্রিক বা ক্লান্তি মনে করে উপেক্ষা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো শরীরের ভেতরে তাপজনিত চাপের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন বা বাইরে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ দ্রুত প্রকাশ পায়।

সমস্যা হলো, আমরা অধিকাংশ সময়ই এসব লক্ষণকে হালকাভাবে নিই। কাজ চালিয়ে যাই, বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বুঝি না। অথচ এই সামান্য অবহেলাই পরিস্থিতিকে দ্রুত জটিল করে তুলতে পারে। তাই শরীর যখন সতর্কবার্তা দেয়, তখনই থেমে যাওয়া জরুরি। ঠান্ডা জায়গায় থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, শরীরে ঠান্ডা পানি দেওয়া বা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা—এই সহজ পদক্ষেপগুলোই বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

গরমের দিনে সচেতনতা মানে শুধু আরাম খোঁজা নয়, বরং নিজের শরীরের ভাষা বোঝা। কারণ শরীর কখনো হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে না, আগেই নানা সংকেত দেয়। সেই সংকেতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে পারলেই মারাত্মক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তাই এই গ্রীষ্মে একটু বেশি সচেতন থাকুন, নিজের শরীরের কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন।

আরও খবর

Sponsered content