ক্যাম্পাস

প্রেমিকের কাছে রুমমেটদের আপত্তিকর ছবি পাঠানোর অভিযোগে ইবি শিক্ষার্থী হল থেকে বহিষ্কার

  নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল রিপোর্ট ৭ আগস্ট ২০২৬ , ৯:৫৯:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হল। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিকের কাছে সহপাঠীদের ব্যক্তিগত ছবি পাঠানোর অভিযোগ, ইবি ছাত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘জুলাই-৩৬’ হলের এক আবাসিক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠীদের গোপনে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি তুলে সেগুলো তার এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হল প্রশাসন তাকে সাময়িকভাবে হল থেকে বহিষ্কার করেছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

অভিযুক্ত তুবাউল জান্নাত ঐশী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং জুলাই-৩৬ হলের আবাসিক ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জানান, অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত ছাত্রীও কয়েকটি বিষয় স্বীকার করেছেন। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িকভাবে হল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হল প্রশাসনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম এবং সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান।

পৃথক আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে জুলাই-৩৬ হলের আবাসিক ছাত্রীদের উদ্দেশে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কারও কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য থাকলে আগামী ৯ আগস্ট অফিস সময়ের মধ্যে প্রভোস্টের কাছে লিখিতভাবে জমা দিতে হবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ছাত্রীর সঙ্গে লন্ডনপ্রবাসী আবিদ নামে এক ব্যক্তির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই ব্যক্তির কাছে তিনি হলের বিভিন্ন ছাত্রীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি গোপনে পাঠাতেন। পরে তাদের সম্পর্কের অবনতি হলে ওই ব্যক্তি প্রতিশোধমূলকভাবে ছবিগুলো বিভিন্ন ছাত্রীর মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, এসব ছবি অভিযুক্ত ছাত্রীই তাকে পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি একাধিকবার নিষেধ করলেও তা বন্ধ হয়নি।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, আবাসিক হলকে নিরাপদ স্থান হিসেবে বিশ্বাস করে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেন। কিন্তু অভিযুক্ত ছাত্রী নাকি তাদের ঘুমন্ত অবস্থায়, সাধারণ পোশাকে কিংবা ওড়না ছাড়া অবস্থায় গোপনে ছবি ধারণ করে বাইরে পাঠিয়েছেন। এমনকি বোরকা ও নিকাব পরা কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবিও তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে অভিযুক্ত ছাত্রী নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তার দাবি, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে নয়, বরং ‘কমনসেন্সের অভাবে’ তিনি এমন কাজ করেছেন। তবে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট একটি অডিও কথোপকথনে লন্ডনপ্রবাসী আবিদ দাবি করেন, এসব ছবি পাঠানোর সময় তিনি অভিযুক্তকে বারবার বিরত থাকতে বললেও তিনি তা শোনেননি এবং বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করতেন। তার ভাষ্য, এসব কাজ থেকে অভিযুক্ত এক ধরনের বিকৃত আনন্দ পেতেন।

আবিদ আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত ছাত্রীর একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং সে-সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য তার কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তের জন্য তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন এবং দুই মাস আগে লন্ডন থেকে দেশে এসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও গিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার বলেন, তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. একেএম শামছুল হক ছিদ্দিকী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সকালে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোট সাতটি লিখিত অভিযোগ সংগ্রহ করেন। পরে হলবডি ও আবাসিক শিক্ষকদের বৈঠকে অভিযুক্ত ছাত্রীকে সাময়িকভাবে হল থেকে বহিষ্কার এবং তার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা হবে এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content