নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল রিপোর্ট ৭ জুন ২০২৬ , ৫:৪০:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভুক্তভোগীর আইনগত উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
রায় ঘোষণার আগে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না আক্তারকে এবং পরে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে আনা হয়। এরপর তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারক রায় পাঠ শুরু করেন।
রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা যায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় শিশু রামিসা নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়। এ ঘটনায় তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং অপরাধের আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকে এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলাটি দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
গত ২ জুন মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মামলার বাদী, ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, পুলিশ কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাদের সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত আলামতের ভিত্তিতে আদালত রায় প্রদান করেন।
ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং তদন্তে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ঘটনার পর অপরাধের বিভিন্ন আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে অল্প সময়ের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের এই রায়কে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।











