আইন আদালত

‘ধর্ষণের ঘটনা আমি ঘটিয়েছি, তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ডলার’—আদালতে এমন দাবি সোহেল রানার

  নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল ডেক্স ১ জুন ২০২৬ , ৯:১৯:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ

আসামি সোহেল রানা আদালতে। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় ধর্ষণের দায় স্বীকার করলেও হত্যার দায় অন্য একজনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা। অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন আদালতে হাজির হয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার।’ একইসঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নির্দোষ বলেও দাবি করেন তিনি।

সোমবার (১ জুন) সকাল পৌনে ৮টার দিকে সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়।

শুনানির আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সোহেল রানা দাবি করেন, ‘ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।’ এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, তার ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্টে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাংবাদিকরা ডলার নামে যার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন তার পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, ‘মিরপুর ১১ নম্বরের এক অনেক টাকাওয়ালা ব্যক্তি।’

আদালত সূত্র জানায়, সকাল পৌনে ৮টার দিকে দুই আসামিকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ।

এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। পরে আদালত ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।

এর মাধ্যমে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং আদালতে তা আমলে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ চারটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আমি আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবো। পরবর্তী সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নেবে।’ দ্রুত বিচারের বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনের আশ্বাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক কোনো বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আমি কেবল আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবো।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে একটি বালতির ভেতর তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার নথি অনুযায়ী, আসামিরা ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content