নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল রিপোর্ট ১৯ মে ২০২৬ , ৫:৪৯:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্তিক খামারিদের কাছে কোরবানির পশু কেবল ব্যবসার উপকরণ নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, মমতা ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার খামারি জাহিদ-ছাবিনা দম্পতির। তাদের খামারে যেন গড়ে উঠেছে মানুষ আর পশুর এক অন্যরকম মায়ার বন্ধন।
নিজেদের সন্তানের মতো স্নেহ-ভালোবাসায় বড় করা বিশাল আকৃতির গরুটির নাম দিয়েছেন ‘জামালপুরের জামাল মিয়া’। আসন্ন কোরবানির হাটে গরুটি ক্রেতাদের বিশেষ নজর কাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের কুলকান্দি গ্রামের এই দম্পতি জানান, প্রায় আড়াই বছর ধরে যত্নে লালন-পালন করা গরুটির ওজন প্রায় ৩৬ মণ বা প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি। বিশাল আকারের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা ও ভালোবাসার কারণেও গরুটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
খামার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের নির্ধারিত খাবারের পাশাপাশি গরুটিকে মিষ্টি আলু ও নানা ধরনের ফল খাওয়ানো হয়, যা তার খুবই পছন্দের। পরিবারের একজন সদস্যের মতোই সবাই মিলে গরুটির দেখাশোনা করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির এই গরুটিকে গোয়ালঘর থেকে বের করতে ১০ থেকে ১২ জনকে একসঙ্গে রশি টানতে হয়। গরুটিকে নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হলেও তার পরিচর্যায় ব্যস্ত পুরো পরিবার। তবে আকার ও শক্তির কারণে অনেকে খুব কাছে যেতে সাহস পান না।
গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষজন। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, “এত বড় গরু এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। জাহিদ-ছাবিনা দম্পতি অনেক কষ্ট করে গরুটি বড় করেছেন। তারা যেন ন্যায্য মূল্য পান, সেটাই চাই। এতে অন্যরাও গরু পালনে আগ্রহী হবে।”
খামারি জাহিদ মিয়া বলেন, “হালাল উপার্জনের আশায় চাকরি ছেড়ে খামার করেছি। নিজের সন্তানের মতো গরুটিকে লালন-পালন করেছি। এখন বিক্রি করতে হবে ভাবতেই খারাপ লাগে। তবুও সংসারের প্রয়োজনের কথা ভেবে বিক্রি করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গরুটিকে পুরোপুরি দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। শুধু যত্ন আর পরিচর্যার মাধ্যমেই আজকের এই ‘জামাল মিয়া’। গরুটির ন্যায্য দাম হিসেবে ৯ লাখ টাকা আশা করছি। এর কমে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে।

















