নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল ডেক্স ৫ জুন ২০২৬ , ১:১১:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু সংক্রমণের দিক থেকে সর্বোচ্চ বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএসসিসির নগর ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে জরিপের সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের পাশাপাশি এডিস মশার লার্ভার প্রধান উৎসগুলোও চিহ্নিত করা হয়। ডিএসসিসির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সহযোগিতায় ৩৬ জন কর্মী গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত এ জরিপ পরিচালনা করেন। আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপে অন্তর্ভুক্ত বাড়িগুলোর মধ্যে ২৮১টিতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা শনাক্ত হয়েছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বহুতল ভবনে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে। এর পরেই রয়েছে স্বতন্ত্র বা একক বাড়ি, যেখানে শনাক্ত হয়েছে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। নির্মাণাধীন ভবনে এ হার ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ, বালতিতে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রজননক্ষেত্র শনাক্ত হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে আগামী ৭ জুন থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ পরিচালনা করা হবে। পরবর্তী সপ্তাহে মাঝারি ঝুঁকিতে থাকা আরও ৩৬টি ওয়ার্ডে একই ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ৬ জুন ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ ধরনের কর্মসূচি নগরীর অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।
আবদুস সালাম বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি প্রতি তিন দিন পরপর জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

















