অপরাধ

তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সন্ত্রাসীদের রামদা-চাপাতির আক্রমণে র‍্যাবের তিন সদস্য আহত

  প্রতিনিধি ৫ মে ২০২৬ , ১০:০৫:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া ছবি। ছবি সংগ্রহীত

নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ-মাসদাইর এলাকার বোয়ালিয়া খালসংলগ্ন লিচুবাগে মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন র‌্যাব-১১-এর তিন সদস্য। চাপাতি ও রামদা নিয়ে চালানো আকস্মিক হামলায় আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বোয়ালিয়া খাল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাইকারীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত। ওই দিন দুপুরে র‌্যাব-১১-এর একটি গোয়েন্দা দল সাদা পোশাকে মাদক কারবারিদের অবস্থান ও তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য নিতে এলাকায় প্রবেশ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল চাপাতি, রামদা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে র‌্যাব সদস্যদের ঘিরে ধরে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এতে র‌্যাব সদস্যদের মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।

আহতরা হলেন র‌্যাব সদস্য নজিবুল, মাহি ও ইব্রাহিম। স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য র‌্যাব সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে নজিবুলের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জহিরুল ইসলাম জানান, আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে একজনের মাথা ও হাতে গভীর ক্ষত থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, হামলায় স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাহিদ ও মাসুদ ওরফে বুইট্টা মাসুদের সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন যুবককে চাপাতি ও রামদা হাতে হামলা চালাতে দেখা গেছে, যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মাহবুব জানান, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।

র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়েই সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। র‌্যাবের ওপর হামলা করে কেউ পার পাবে না। মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যাব জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময়ের সাধারণ চলাচলের এলাকা ধীরে ধীরে মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ ওই এলাকা এড়িয়ে চলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিনই এখানে মাদকের আসর বসে। মাঝেমধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হয়।”

আরও খবর

Sponsered content