প্রতিনিধি ১ মে ২০২৬ , ৪:৩২:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতীয় চলচ্চিত্রের বক্স অফিসে যেন সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। বহুদিন ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে থাকা একটি রেকর্ড এবার ভেঙে দিয়েছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। মুক্তির ছয় সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী প্রায় ১,৬৪৬ কোটি রুপি আয় করে ছবিটি এখন আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে।

এই সাফল্য কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; এটি দর্শকের পছন্দের পরিবর্তন, বাজারের নতুন প্রবণতা এবং বড় বাজেটের সিনেমার বর্তমান বাস্তবতার প্রতিফলনও বটে। প্রায় এক দশক ধরে যে আসন দখলে রেখেছিল ‘বাহুবলি ২’, সেই জায়গা এখন দখল করেছে এই নতুন ছবি। প্রায় নয় বছর ধরে শীর্ষে থাকা ‘বাহুবলি ২’-এর রেকর্ড ভাঙা সহজ ছিল না। এর মাঝে ‘পুষ্পা: দ্য রুল’ খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও শীর্ষস্থান ছুঁতে পারেনি।
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এর ধারাবাহিক জনপ্রিয়তা ধরে রাখার সক্ষমতা। মুক্তির পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে হাউসফুল প্রদর্শনী চলেছে। শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটি শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ -এর দৃশ্য। ছবি: আইএমডিবি
মোট আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে ভারতীয় বাজার থেকেই—প্রায় ১,২৩৭ কোটি রুপি। আর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যোগ হয়েছে আরও প্রায় ৪০৯ কোটি রুপি। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সিনেমাটি কেবল শুরুর সাফল্যের ওপর নির্ভর করেনি; বরং দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এই রেকর্ডের বিশেষ দিক হলো—এটি সম্পূর্ণ ‘অরিজিনাল রান’ বা প্রাথমিক মুক্তির আয়ের ভিত্তিতেই অর্জিত। অনেক চলচ্চিত্র পরে চীনসহ অন্যান্য বড় বাজারে মুক্তি পেয়ে আয় বাড়ায়, কিন্তু ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ মূল বাজারেই এই সাফল্য অর্জন করেছে।
ছবিটির বিপুল জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে গল্প, অ্যাকশন এবং আবেগের সমন্বয়। পাশাপাশি প্রধান চরিত্রে রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী উপস্থিতি দর্শকদের সঙ্গে দ্রুত সংযোগ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ -এর দৃশ্য। ছবি: আইএমডিবি
অনেকের মতে, এই সিনেমাটি আধুনিক বাণিজ্যিক ধারার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে বিনোদন, দৃষ্টিনন্দন ভিজ্যুয়াল এবং আবেগ একসঙ্গে সফলভাবে মিশেছে।
যদিও ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ মূল মুক্তির আয়ের ভিত্তিতে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছেছে, তবে সর্বমোট আয়ের দিক থেকে এখনো এগিয়ে রয়েছে ‘দঙ্গল’। কারণ ছবিটি পরবর্তীতে চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তি পেয়ে বিপুল আয় করতে সক্ষম হয়েছিল।
ভবিষ্যতে আসতে যাওয়া বড় বাজেটের সিনেমা—যেমন ‘রামায়ণ’ ও ‘বারাণসী’—এই রেকর্ডকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অর্জনের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমা বৈশ্বিক বাজারে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।









