সারাদেশ

কোরবানির পশু জবাই করতে বিমানে চড়ে ঢাকায় আসবেন সৈয়দপুরের কসাইরা।

  নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল রিপোর্ট ২৩ মে ২০২৬ , ১১:৩৪:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ

বিমানে চড়ে কোরবানির কাজে ঢাকায় আসবেন নাদিম কোরাইশি ও তার দল। ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র চার দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবে পশু কোরবানির মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করা হয়। আর এই কোরবানিকে ঘিরেই রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সৈয়দপুরের মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম কোরাইশি (৫৫)।

স্থানীয়ভাবে ‘ছোটু নাদিম’ নামেই বেশি পরিচিত তিনি। জানা গেছে, ঈদের আগের দিন ১০ সদস্যের একটি দল নিয়ে বিমানে ঢাকায় রওনা দেবেন নাদিম। ইতোমধ্যে তাদের বিমানের টিকিটও কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

ছোটু নাদিম জানান, তাদের পূর্বপুরুষরাও কোরবানির ঈদে ঢাকায় গিয়ে কাজ করতেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনও বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, “মানুষ এখনও আমাদের ডাকেন। পশুর চামড়া ছাড়ানো, মাংস টুকরো করা, হাড় আলাদা করা—সবকিছুতেই আলাদা দক্ষতা প্রয়োজন। ছোটবেলা থেকেই আমরা এসব কাজ শিখে বড় হয়েছি।”

প্রতিবছরের মতো এবারও সৈয়দপুর থেকে শতাধিক কসাই কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে রাজধানীমুখী হবেন। কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, আবার অনেকে বিমানে করেও ঢাকায় যাবেন। ঈদের কয়েক দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজ শেষে তারা আবার নিজ শহরে ফিরে আসবেন।

ছোটু নাদিমসহ এসব কসাইয়ের বড় একটি অংশ বিহারি সম্প্রদায়ের। বংশপরম্পরায় তারা মাংস ব্যবসা ও কসাই পেশার সঙ্গে জড়িত। পশু জবাই ও মাংস কাটায় তাদের বিশেষ দক্ষতার কারণে ঢাকায় তাদের আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে।

ছোটু নাদিমের ভাষায়, “কসাইয়ের কাজটাও এক ধরনের শিল্প। নিখুঁতভাবে পশু জবাই করা, চামড়া অক্ষত রাখা কিংবা সুন্দরভাবে মাংস ভাগ করা—সবকিছুর জন্যই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দরকার।”

জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে বাবার হাত ধরেই কসাইয়ের পেশায় যুক্ত হন ছোটু নাদিম। এরপর থেকে প্রতি ঈদেই তিনি ঢাকায় গিয়ে কাজ করছেন। রাজধানীর অনেক অভিজাত পরিবারের বাসায় কোরবানির পশু জবাইয়ের কাজ করেছেন তিনি। একসময় ঢাকার সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকার বাসাতেও কোরবানির গরু জবাই করেছিলেন বলে জানান নাদিম। তিনি বলেন, খোকা তাদের থাকার ব্যবস্থাও করে দিতেন।

এর আগে ২০২৫ সালে চার সহযোগীকে নিয়ে ঢাকায় ১২টি গরু জবাই করেছিলেন ছোটু নাদিম। তখন মোট আয় হয়েছিল প্রায় দুই লাখ টাকা। সহযোগীদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন তিনি। যাতায়াতের খরচও বহন করেছিলেন নিজেই।

এবার তার দলে সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। দলটিকে তিন ভাগে ভাগ করে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকার অনেক পরিবার তাদের আগাম বুকিংও দিয়ে রেখেছে।

ছোটু নাদিমের পাশাপাশি সৈয়দপুর পৌর মাংসহাটির কসাই ফজলে রাব্বি, নওশাদ আলী ও খয়রাত হোসেনও পৃথক দল নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন। স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সি থেকে তারা বিমানের টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

ফজলে রাব্বি বলেন, “ঈদের আগে ঢাকাগামী বিমানে সাধারণত যাত্রী কম থাকে। কারণ ওই সময় বেশিরভাগ মানুষ ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে আসেন। তাই বিমান কোম্পানিগুলো ভাড়া কমিয়ে দেয়। আমরা সেই সুযোগটা কাজে লাগাই।”

ঢাকায় মাংস কাটার পারিশ্রমিক তুলনামূলক বেশি বলে জানান মো. মিন্টু। তিনি বলেন, “সবাই পরিবার নিয়ে ঈদ করতে চায়। কিন্তু বাড়তি আয়ের আশায় আমরা ঢাকায় যাই। সৈয়দপুরে এক লাখ টাকার গরু জবাই করে সর্বোচ্চ আট হাজার টাকা পাওয়া যায়। অথচ ঢাকায় একই কাজের জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। একজন দক্ষ কসাই ঈদের তিন দিনে অন্তত ১০টি গরুর মাংস কাটতে পারেন। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই ভালো অঙ্কের আয় নিয়ে বাড়ি ফেরা সম্ভব হয়।”

আরও খবর

Sponsered content