বিশ্ব সংবাদ

ভারতে চালু হলো নতুন ক্যানসার চিকিৎসার ইনজেকশন, মাত্র ৭ মিনিটেই মিলবে সেবা।

  প্রতিনিধি ১৮ মে ২০২৬ , ৮:২৭:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

ইনজেকশন প্রয়োগের এআই প্রযুক্তিতে তৈরি প্রতীকী ছবি। সূত্র: এনডিটিভি

ভারতে ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছে নতুন এক সম্ভাবনা। দেশটিতে প্রথমবারের মতো এমন একটি ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন চালু করা হয়েছে, যা মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই প্রয়োগ করা সম্ভব। চিকিৎসাবিদদের ধারণা, এটি ক্যানসার চিকিৎসাকে আগের তুলনায় আরও দ্রুত, সহজ এবং রোগীবান্ধব করে তুলবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ‘টেসেন্ট্রিক’ নামের এই নতুন ওষুধ বাজারে এনেছে রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া।

এতদিন ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপি মূলত শিরায় ইনফিউশনের মাধ্যমে দেওয়া হতো। সে ক্ষেত্রে রোগীদের হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হতো। তবে নতুন এই ইনজেকশন সরাসরি ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা যায় এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় মাত্র সাত মিনিটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি চালু হলে রোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী ও দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ এতে বেশি সুবিধা পাবেন।

জানা গেছে, এই চিকিৎসা প্রধানত নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার (এনএসসিএলসি) রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে। ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের মধ্যে এ ধরনটিই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

নতুন ইনজেকশনে ব্যবহৃত হয়েছে ‘অ্যাটেজোলিজুমাব’ নামের একটি ওষুধ। এটি শরীরের ‘পিডি-এল১’ নামক একটি প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। সাধারণত ক্যানসার কোষ এই প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়। কিন্তু প্রোটিনটি বন্ধ হয়ে গেলে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যানসার কোষকে শনাক্ত করে আক্রমণ চালাতে সক্ষম হয়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব রোগীর টিউমারে পিডি-এল১-এর উপস্থিতি বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই থেরাপি সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এ চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। কারণ কেমোথেরাপি সুস্থ কোষেরও ক্ষতি করতে পারে, অথচ ইমিউনোথেরাপি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করেই ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে।

তবে আধুনিক এই চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যয়ও বেশ বেশি। জানা গেছে, প্রতিটি ডোজের দাম প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। সাধারণত একজন রোগীর ছয়টি ডোজ প্রয়োজন হয়। ফলে পুরো চিকিৎসার খরচ কয়েক লাখ রুপিতে পৌঁছে যেতে পারে।

এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই চিকিৎসা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা। খরচ কিছুটা কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি এটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প (সিজিএইচএস)-এর আওতায়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি এবং তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের অন্যতম দাবি।

আরও খবর

Sponsered content