নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল ডেক্স ৩১ মে ২০২৬ , ১১:৩২:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নিচে লেখাটি নতুন ভাষা, বাক্যগঠন ও উপস্থাপনায় পুনর্লিখন করা হলো। তথ্য, নাম, উদ্ধৃতি ও মূল বক্তব্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে—

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় স্থানীয় মানুষের নিজস্ব অর্থায়নে কংশ নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে একটি কাঠের সাঁকো। প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি হওয়া এই সাঁকোকে এলাকাবাসী শুধু একটি যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফুলপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি বহু বছর ধরে জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে নিজেদের প্রয়োজন থেকেই এলাকার মানুষ অর্থ ও শ্রম দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে এই সাঁকো ব্যবহার করে আশপাশের আটটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করছেন এবং কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।
সেনেরচর গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বন্যাপ্রবণ ও নিচু এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। উপজেলা সদরের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগব্যবস্থা এখনও দুর্বল। পাকা রাস্তা ও স্থায়ী সেতুর অভাবে আমরা নানা দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছি।”
ঘোনাপাড়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় জনগণের অর্থায়নে সাঁকোটি নির্মিত হওয়ায় গ্রামীণ জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। কৃষকরা এখন সহজে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে পারছেন এবং ন্যায্য মূল্যও পাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষি উপকরণ পরিবহনের খরচও আগের তুলনায় কমে গেছে।
শনিবার (৩০ মে) সরেজমিনে ফুলপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাঁকোটি পরিদর্শন করে জানা যায়, নিশুনিয়াকান্দা, সেনেরচর, ঝিলকি, চাতুলিয়াকান্দা, চকেরকান্দা, পুটিয়া, ঘোনাপাড়া ও মালিঝিকান্দা গ্রামের মানুষ এই সাঁকো ব্যবহার করছেন। এছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সাঁকোটির ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল, ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং বিভিন্ন আধুনিক কৃষিযন্ত্র চলাচল করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় সংগ্রহ করা প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশ, কাঠ ও গাছের খুঁটি ব্যবহার করে অস্থায়ীভাবে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, আগামী দুই বছরের মধ্যে সাঁকোটি নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই সেখানে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইন ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, ওই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আবেদন জানিয়ে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা তার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। সরকারি অর্থায়নে একটি পাকা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

















