প্রতিনিধি ২৬ এপ্রিল ২০২৬ , ৬:৫৬:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নকল দুধ তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণ ধ্বংস করেছে প্রশাসন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ভাঙ্গুড়া হাসপাতাল এলাকার কুঠিপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এসব উপকরণ ধ্বংস করা হয়।
ধ্বংস করা উপকরণের মধ্যে রয়েছে— ৬০০ কেজি গ্লুকোজ জেলি, ৫০ লিটার সরবিটাল এবং ২০০ লিটার গ্লিসারিন।
ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের এসআই সুব্রত সাহা জানান, উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের আবু তালেবের ছেলে আবুল বাশার এবং ভবানীপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে জিসানের নামে ‘জনতা ট্রান্সপোর্টে’ এসব মালামাল আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাশার ও জিসান উভয়েই তাদের কারখানায় নকল দুধ উৎপাদন করেন। এর আগেও তাদের কারখানায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছিল।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলায় বেশ কয়েকটি নকল দুধ তৈরির কারখানা সক্রিয় রয়েছে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুগ্ধ ব্যবসায়ী আবুল বাশার ও জিসানের কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার জনতা ট্রান্সপোর্টে তাদের নামে আনা ভেজাল বা নকল দুধ তৈরির উপকরণ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। অভিযানের সময় মালিকদের কেউ উপস্থিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে লাইভস্টক বিভাগকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দৈনিক ইত্তেফাকে রোববার ‘ভাঙ্গুড়ায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে নকল দুধ তৈরির কারখানা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর নকল দুধ তৈরির বিরুদ্ধে সোচ্চার দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২০০৯ সালের ১২ (২) ও ১২ (৩) ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী জব্দকৃত মালামাল ধ্বংসের নির্দেশ দেন। এ সময় উপজেলা লাইভস্টক অফিসার ডা. রুমানা আক্তার এবং ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের সদস্যরা তাকে সহযোগিতা করেন।

















