প্রতিনিধি ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ৭:৪৯:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীর হাতিয়া এলাকায় পৃথক বজ্রপাতে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নেত্রকোনায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন এবং নোয়াখালীতে একজন রয়েছেন। এছাড়াও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে আলাদা আলাদা স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট (ফেরি) এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বাগবেড় গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মুজিবুর রহমান জানান, সকালে তারা তিনজন ধনু নদে বরশি দিয়ে মাছ ধরছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে আব্দুল মোতালিব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরদিকে, উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকানোর সময় বজ্রপাতে মোনায়েম খাঁ পালান নামে এক কৃষক নিহত হন। তিনি ওই গ্রামের নেকবর খাঁর ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর দেড়টার দিকে ধান শুকানোর সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং সঙ্গে সঙ্গে মারা যান। একই দিন বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মন্ডল নামে আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার আকনাদিঘির চর এলাকায়।
সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষক মারা গেছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে জেলার বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হন। একই সময়ে সদর উপজেলার অন্য একটি হাওরে বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামে আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়।
এছাড়া শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আরও তিনজন কৃষক আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শফিক জানান, বজ্রপাতে আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
সিলেটের হবিগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই দিন বিকেল ৩টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম সংলগ্ন গড়দার হাওরে এবং বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মকছুদ আলী (৪০) নামে এক কৃষক নিজের জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি নোয়াগাঁও গ্রামের ছাবর উল্লার ছেলে। এছাড়া বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুস সালাম (৩৫) বাড়ির পাশের খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নিহত মকছুদ আলীর পরিবারটি দরিদ্র। তাদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, নোয়াখালীর হাতিয়ায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফাত হোসেন মৃত আফছার মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান চালাতেন এবং পাশাপাশি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ারুল আজিম জানান, “আরাফাত দুপুরে বাদাম শুকাতে দিয়েছিলেন। বৃষ্টি শুরু হলে সেগুলো আনতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।”
হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

















