রাজনীতি

অতীত আঁকড়ে না থেকে নতুন ইতিহাস গড়ার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার ডা.শফিকুর রহমান

  প্রতিনিধি ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ৮:৪৬:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সরকারি দলের উদ্দেশে বলেছেন, “অতীতকে মনে রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়াও জরুরি। তবে শুধু ইতিহাস নিয়েই পড়ে থাকলে আমরা নতুন কিছু গড়তে পারব না। তাই আসুন, ইতিহাসকে তার জায়গায় রেখে আমরা ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাই।”

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রায় ৪৩ মিনিটব্যাপী বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং জননিরাপত্তা নিয়ে দলের অবস্থান ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, “অনেকে অভিযোগ করেন আমরা সংবিধান মানি না। যদি তা-ই হতো, তাহলে আমরা সংসদে এলাম কীভাবে? আমরা আইন মেনে চলি। কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে আমরা আন্দোলন করতে পারি, কিন্তু বিদ্রোহের পথ বেছে নেব না।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক সংশোধিত সংবিধান বাদ দিয়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য। এ সময় তিনি গণভোটে অনুমোদিত ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

সরকারের কৃষিনীতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গ্রামে যে ফসল ১০ টাকায় বিক্রি হয়, তা ঢাকায় ৪০ টাকায় পৌঁছে যায়। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।” তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কারও চাপ বা হুমকিকে ভয় না পেয়ে চীনের অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সাহস দেখান। এতে দেশের কোটি মানুষ আপনাদের পাশে থাকবে—আমি নিজেও সমর্থন দেব।”

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষাপটে সরকারের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, “ইরানের কঠিন সময়ে কেন বাংলাদেশ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি? কেন মিত্ররাষ্ট্রগুলো বলছে, তারা আমাদের সমর্থন পায়নি?” তিনি একটি স্বাধীন ও দৃঢ় পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের অনেক বন্ধুর প্রয়োজন, কিন্তু কোনো প্রভুর নয়। আমরা নিজের ভাষায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলব, অন্যের নির্দেশে নয়।”

ফ্যাসিবাদী শাসনামলের সময়কার গুম, খুন ও ধর্ষণের ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, “ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডসহ প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” একইসঙ্গে দেশে চলমান চাঁদাবাজি ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকে ‘অপ্রতুল’ উল্লেখ করে তিনি আগামী বাজেটে এ দুটি খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব বন্ধ করতে হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫-এর খাল দখল, ভাঙাচোরা সড়কসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটি ও আলোচনার মাধ্যমে যেমন জ্বালানি সংকটের মতো জটিল সমস্যা সমাধান সম্ভব, তেমনি জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে আরও এগিয়ে নেওয়াও সম্ভব।

আরও খবর

Sponsered content