রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একপাক্ষিক চুক্তি জাতির জন্য বিপদ সংকেত—ইসলামী আন্দোলন

  প্রতিনিধি ৫ মে ২০২৬ , ৯:৫২:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর একতরফাভাবে ১৩১টি বিষয়ে বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রাখা হয়েছে মাত্র ৬টি বাধ্যবাধকতা। এ চুক্তিকে ‘জাতির জন্য অশনি সংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটি দাবি করেছে, বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থনেই এটি সম্পন্ন হয়েছে—যা দেশের স্বার্থ সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই এর যৌক্তিকতা ও সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, সেই আশঙ্কাগুলোই বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

চুক্তির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে আতাউর রহমান জানান, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ভর্তুকি সংক্রান্ত ধারা। ‘বাণিজ্যিক বিবেচনা ও সুযোগ’ শীর্ষক অংশে উল্লেখ রয়েছে—রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থে দেশীয় উৎপাদকদের ভর্তুকি দিতে পারবে না এবং উৎপাদনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোকে বিশেষ সহায়তা বা ভর্তুকি প্রদান থেকেও বিরত থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র লিখিতভাবে অনুরোধ করলে বাংলাদেশকে ভর্তুকি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করতে হবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়া হলে তা জানাতে হবে।

তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজ জনগণের কল্যাণে ভর্তুকি প্রদানের ক্ষমতা এ চুক্তির মাধ্যমে কার্যত সীমিত করে ফেলা হয়েছে।

আতাউর রহমান আরও বলেন, চুক্তির আওতায় একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগদান ও তা বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতাও তৈরি করা হয়েছে। অথচ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থই প্রাধান্য পায়। কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগ দেওয়া বা না দেওয়া একটি স্বাধীন দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, অন্য কোনো রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। কিন্তু এ চুক্তিতে সেই শর্ত মেনে নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, চুক্তির সময় বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আতাউর রহমান বলেন, ‘দেশের স্বার্থ বিসর্জনের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দল একমত হয়ে গেলে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে—এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়।’

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সর্বদলীয় আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের মতে, এই চুক্তি নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সর্বদলীয় আলোচনা হওয়া জরুরি এবং সেখান থেকেই সমাধানের পথ বের করতে হবে। আমরা কোনো পরাশক্তির অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারি না। একাত্তর ও জুলাই আমাদের স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা দেয়।’

আরও খবর

Sponsered content