জাতীয়

দেশে আবারও প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী গণমাধ্যম দেখতে চান তথ্য উপদেষ্টা

  প্রতিনিধি ৩ মে ২০২৬ , ৪:০৭:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

গণমাধ্যমকে সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা জোরালোভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “আপনারা প্রত্যেকে দৃঢ়ভাবে সরকারের যেকোনো ধরনের যৌক্তিক সমালোচনা অব্যাহত রাখবেন। আমি দেখতে চাই, দেশে আবারও একটি শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত গণমাধ্যম গড়ে উঠুক।”

তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই বর্তমান সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না, যা গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বরং তিনি সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার ওপর জোর দেন।

তথ্য উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে তাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার নামে ছড়ানো হয়েছে যে, জনগণের কল্যাণের জন্যই সরকার বেশি বেশি লোডশেডিং দিচ্ছে। এমন একটি ফটোকার্ড আমার পরিচিতরা পাঠিয়ে জানতে চেয়েছে—আমার মাথা ঠিক আছে কি না!” তিনি জানান, এই ধরনের ফটোকার্ড শেয়ার করে তাকে ট্যাগ করে অশালীন মন্তব্যও করা হয়েছে।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমেও এ ধরনের ‘মিস ইনফরমেশন’ ও ‘ডিজইনফরমেশন’–সম্বলিত ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি একটি মূলধারার গণমাধ্যম তার বক্তব্য ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ‘ফেক নিউজ’ তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “ফেক নিউজ তৈরি করা অন্যায়। এর বিরুদ্ধে সরকার আইনগতভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ৫ আগস্টের পর আটক সাংবাদিকদের মুক্তির বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে আমরা যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছি।”

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিটিভির বার্ষিক বাজেট ৩২০ কোটি টাকার বেশি হলেও আয় মাত্র ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে সময়োপযোগী করে পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content