জাতীয়

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রর প্রকল্পে ৯০% রাশিয়ার ঋণ, ২৮ বছরে পরিশোধ করবে বাংলাদেশ

  প্রতিনিধি ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৪৮:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। ছবি: সংগৃহীত

আর্থিক পরিসরের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি রাশিয়ার সহায়তায় নির্মাণাধীন রয়েছে। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে মোট অর্থের ৯০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া, যা বাংলাদেশকে ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটমের তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছে। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, তা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে পদ্মা তীরবর্তী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এরপর প্রয়োজনীয় ধাপ ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ইউনিট পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর তালিকায় ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, “জ্বালানি স্থাপনের পর চূড়ান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য ধাপে ধাপে নানা পরীক্ষা চালানো হবে, যা অত্যন্ত জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং একটি প্রক্রিয়া।”

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই কেন্দ্র থেকে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টরের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করা সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণ কাজ চলাকালে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক এখানে কাজ করছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হবে এবং ওই বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ দুটি ইউনিট থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

প্রথম ইউনিটের সঞ্চালন লাইনের কাজ ইতোমধ্যে গত বছরের মে মাসেই সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ইউনিটের সঞ্চালন লাইনের কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content