নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল ডেস্ক ১২ মে ২০২৬ , ৫:৪৫:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
ইনফ্লুয়েঞ্জা পরিবারের নতুন ও তুলনামূলকভাবে অজানা এক ভাইরাস ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’কে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই ভাইরাস ভবিষ্যতে বড় ধরনের বৈশ্বিক মহামারির কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাধারণ সর্দি-কাশির জন্য দায়ী অ্যাডিনোভাইরাসের তুলনায় বেশি সংক্রামক এবং খুব দ্রুত নিজের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে সক্ষম।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বিশ্ববাসী এতদিন ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ ও ‘বি’ ভাইরাস সম্পর্কে পরিচিত থাকলেও নতুন ‘ডি’ ধরনটি নতুন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি ভাইরাল জ্বর বৃদ্ধির পেছনে ইনফ্লুয়েঞ্জার আরেকটি ধরন ‘সাবক্ল্যাড কে’ ভাইরাসের সক্রিয়তা দেখা গেলেও গবেষকদের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি।
গবেষণায় উঠে এসেছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি মূলত একটি আরএনএ ভাইরাস, যা আগে শুধু গবাদিপশুর শরীরে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে বর্তমানে এটি প্রাণীর দেহ থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি এবং জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষকরা।
যদিও এখনো এটি মহামারির রূপ নেয়নি, তবে খামারকর্মীদের শরীরে এ ভাইরাসের অ্যান্টিবডি শনাক্ত হওয়ায় মানুষের মধ্যে সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটির অন্যতম বিপজ্জনক বৈশিষ্ট্য হলো এটি উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে এবং অত্যন্ত স্থিতিশীল প্রকৃতির হওয়ায় যেকোনো পরিবেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে।
গবেষকদের মতে, মানুষের লিভারে উৎপন্ন ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’ নামের একটি বিশেষ প্রোটিন এই ভাইরাসের সংক্রমণকে আরও জটিল করে তোলে। রক্তের মাধ্যমে প্রোটিনটি শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে লিভার ও ফুসফুসের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করে।
এছাড়া ভাইরাসটি শরীরের শক্তি উৎপাদনকারী অংশ মাইটোকন্ড্রিয়ার ওপর আঘাত হানে, ফলে সুস্থ কোষ ধ্বংস হতে থাকে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে এটি সাধারণ জ্বর বা সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ তৈরি করলেও শরীরের ভেতরে ভাইরাসের দ্রুত বিভাজন ও বিস্তারে সহায়তা করে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটি কবে বড় ধরনের রূপান্তরের মাধ্যমে মানুষের জন্য আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এখন থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও গবেষণা জোরদার করা হয়েছে।
ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিষেধক ও প্রতিরোধব্যবস্থা উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটি অত্যন্ত অভিযোজনক্ষম হওয়ায় একে সাধারণ ফ্লু ভেবে অবহেলা করা ঠিক হবে না। ভবিষ্যতে এটি যেন করোনাভাইরাসের মতো বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

















