নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল রিপোর্ট ১ জুলাই ২০২৬ , ১২:২২:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
দেশব্যাপী আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—প্রথমবারের মতো দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে প্রশ্নফাঁস রোধসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, সব বোর্ডে অভিন্ন মানদণ্ডে উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করাই এবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী রয়েছেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। অপরদিকে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অংশ নিচ্ছেন ২ লাখ ৮৬৯ জন শিক্ষার্থী। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়েই শুরু হবে এবারের পরীক্ষা।
দেশের ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টি ঢাকায় অবস্থিত। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশ্নপত্র বিতরণ, উত্তরপত্র সংরক্ষণ, ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নীতিমালা, পরীক্ষাকেন্দ্রের শৌচাগার তল্লাশিসহ মোট ৩৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা প্রশাসন।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে কোনো কারণে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলে সেদিনের পরীক্ষা সারা দেশে স্থগিত করে পরবর্তীতে নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।







