নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল ডেস্ক ১৫ মে ২০২৬ , ৮:২৭:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ভাগ্নেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন মামাও, নিহত দুইজন

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মামা-ভাগ্নেসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুর সোয়া ২টার দিকে উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের ভাট্টা গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ওই এলাকার মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে তাজউদ্দিন (৪০) এবং মৃত মিয়া হোসেনের ছেলে আরশব আলী (৬০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে ছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, দুপুরের দিকে বাড়ির পাশে খড় শুকানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন তাজউদ্দিন। এ সময় ঝড়ো বাতাসে ছিঁড়ে পড়ে থাকা একটি বিদ্যুতের তার খড়ের নিচে চাপা পড়ে ছিল, যা তিনি বুঝতে পারেননি। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ওই তারে স্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।
এসময় পাশের মাঠে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে আরশব আলী তাজউদ্দিনকে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকেও বিদ্যুতের তার স্পর্শ করলে তিনিও গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পর স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে যায়।
ফুলপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল বাশার জানান, খবর পাওয়ার পর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
—
### ভারতে ভোজশালা নিয়ে হাইকোর্টের রায়, উপাসনার অধিকার শুধু হিন্দুদের
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক ভোজশালা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৫ মে) বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছেন, ভোজশালার রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সংরক্ষণ বিভাগ (এএসআই)-এর কাছেই থাকবে। তবে সেখানে উপাসনার অধিকার কেবল হিন্দুদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, মুসলিম সম্প্রদায় যদি নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প জমি চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করে, তাহলে সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, রাজা ভোজের শাসনামলে (১০১০-১০৫৫) সেখানে সরস্বতী মন্দির ও সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। অন্যদিকে মুসলিমদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কামাল মাওলা দরগা ও মসজিদ হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) জানিয়েছে, চতুর্দশ শতকে সুফি সাধক কামালউদ্দিনের সমাধির ওপর মসজিদটি নির্মিত হয়।
অযোধ্যা মামলার পর থেকেই ভোজশালাকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়। দীর্ঘদিনের মামলার শুনানিতে এএসআই-এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট এই রায় দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ওই স্থানে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দুরা নিয়মিত উপাসনা করে আসছেন এবং ঐতিহাসিক সাহিত্যেও এটিকে সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে প্রশাসনিক অনুমতি অনুযায়ী প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুরা পূজা এবং প্রতি শুক্রবার মুসলিমরা নামাজ আদায় করতেন। এছাড়া বসন্ত পঞ্চমীতেও সরস্বতী পূজার আয়োজনের অনুমতি ছিল। তবে নতুন রায়ের ফলে মুসলিমদের নামাজ আদায়ের অনুমতি বাতিল হয়ে গেল।
রায়ে আদালত রাজ্য সরকারকে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি লন্ডনের একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত সরস্বতী মূর্তি ভোজশালায় ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সরকারকে বলা হয়েছে।
এই রায়ের পর মুসলিম পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে যাবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে আপাতত ১৯৫৮ সালের আইন অনুযায়ী ভোজশালা সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবেই থাকবে এবং এর তত্ত্বাবধানে থাকবে এএসআই।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে











