প্রতিনিধি ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:০৪:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
কিডনি বা মূত্রনালীর পাথরজনিত সমস্যায় অনেক মানুষই ভোগেন। এ ধরনের সমস্যায় হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, এমনকি কখনও প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়ার মতো বিভিন্ন উপসর্গ প্রকাশ পায়।

এই পাথর মূলত শরীরের ভেতরে জমে থাকা খনিজ ও লবণের শক্ত দানা। পাথর যদি আকারে ছোট হয়, তাহলে অনেক সময় তা টেরই পাওয়া যায় না। কিন্তু বড় হয়ে গেলে এটি তীব্র যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাহলে প্রশ্ন আসে—এই পাথর আসলে কেন তৈরি হয়?
মানুষের প্রস্রাবে স্বাভাবিকভাবেই নানা ধরনের খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ থাকে, যা সাধারণত তরলের সঙ্গে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু কোনো কারণে যদি এসব উপাদানের ঘনত্ব বেড়ে যায় বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, তখন সেগুলো একত্রিত হয়ে ধীরে ধীরে স্ফটিক তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্ফটিকগুলো বড় হয়ে পাথরে পরিণত হয়।
পাথর তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ হলো পর্যাপ্ত পানি না পান করা। শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, ফলে খনিজ পদার্থগুলো সহজেই জমাট বাঁধে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া বা অতিরিক্ত ঘামের সময় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
খাদ্যাভ্যাসও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত লবণ, প্রাণিজ প্রোটিন (যেমন মাংস) এবং অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালং শাক, বাদাম) বেশি খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এটি সবার জন্য একই রকম নয়—ব্যক্তিভেদে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
পরিবারে যদি কারও এ সমস্যা থাকে, তাহলে অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। অর্থাৎ, বংশগত কারণও এখানে ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা পাথর তৈরির সম্ভাবনা বাড়ায়। এছাড়া দীর্ঘ সময় শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা বা দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকলেও এই ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
দীর্ঘদিন নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে মূত্রে খনিজের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে, যা পাথর তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
অনেকক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাস মূত্রনালীর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে পাথর তৈরির সম্ভাবনা কিছুটা বাড়তে পারে।
পাথর ছোট হলে অনেক সময় কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে পাথর বড় হলে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, বমিভাব বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই এ সমস্যা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
মূত্রনালীর পাথর হঠাৎ তৈরি হয় না; এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস—যেমন পর্যাপ্ত পানি পান ও সঠিক খাদ্য নির্বাচন—এই সমস্যা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। শরীরের সূক্ষ্ম সংকেতগুলো সময়মতো বুঝতে পারলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

















