অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কে রপ্তানিতে ঝুঁকি, এডিবির সতর্কবার্তা

  নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল ডেস্ক ১০ জুলাই ২০২৬ , ২:৫১:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের সাম্প্রতিক প্রকাশিত‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক, জুলাই ২০২৬’ প্রতিবেদনে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত শুল্ক শুধু বাণিজ্য ব্যয়ই বাড়াবে না, বরং পুরো এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার ঝুঁকিও বাড়াবে।

এডিবির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কার্যকর শুল্কহার গড়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাব হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, যেসব দেশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) মূলত দুটি পৃথক পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে—

১. জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার: বাংলাদেশসহ ৫৪টি দেশকে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধকরণ ও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২. ৩০১ ধারার আওতায় পর্যালোচনা: এই পর্যালোচনার আওতায় বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান ও ভিয়েতনামসহ ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতার আভাস মিললেও ইউএসটিআরের সাম্প্রতিক তদন্ত ও নতুন শুল্ক আরোপের উদ্যোগ সেই পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। প্রস্তাবিত শুল্কের পরিধি, হার এবং কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিবির এই সতর্কবার্তা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে এবং রপ্তানি খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে শ্রম আইন কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুসরণ এবং কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে এখন থেকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আরও খবর

Sponsered content