প্রতিনিধি ৯ মে ২০২৬ , ৯:২১:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
কোরবানি ইসলামের অন্যতম প্রাচীন ইবাদত, যার সূচনা হয়েছিল মানবজাতির প্রথম নবী আদম (আ.)-এর সময় থেকেই। বিশুদ্ধ মতানুসারে, হিজরতের দ্বিতীয় বছরে মদিনায় মুসলিম উম্মাহর ওপর কোরবানি ওয়াজিব করা হয়। কোরবানি ফরজ হওয়ার পর থেকে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো এ আমল পরিত্যাগ করেননি। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় অবস্থানের প্রতিটি বছরই কোরবানি আদায় করেছেন। (তিরমিজি: ১৫০৭)

### নবীজির কোরবানির পশুর বৈশিষ্ট্য
রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির জন্য উৎকৃষ্ট ও সুন্দর পশু নির্বাচন করতেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নবীজি যখন কোরবানির ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি মোটাতাজা, মাংসল, শিংযুক্ত, ধূসর বর্ণের এবং খাসি করা দুটি মেষ ক্রয় করতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩১২২)
### নবীজি যেসব পশু কোরবানি করেছেন
হাদিসে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন ধরনের পশু দ্বারা কোরবানি করেছেন। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
**১. গরু:**
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গাভি কোরবানি করেছিলেন। (বুখারি: ২৯৪)
**২. মেষ বা ভেড়া:**
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি কোরবানির জন্য দুটি মোটাতাজা, শিংওয়ালা ও ধূসর রঙের খাসি করা মেষ নির্বাচন করতেন। (ইবনে মাজাহ: ৩১২২)
**৩. দুম্বা:**
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে একটি দুম্বা জবাই করেছিলেন। (সুনানে আবি দাউদ: ২৭৯২)
**৪. উট:**
বিদায় হজের সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১০০টি উট কোরবানি করেন। এর মধ্যে ৬৩টি তিনি নিজ হাতে জবাই করেন এবং বাকি উটগুলো হযরত আলী (রা.) জবাই করেন। (ত্বহাবি: ৬২৩৬)
**৫. ছাগল:**
রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাতি হাসান (রা.)-এর আকিকায় ছাগল কোরবানি করেছিলেন। পাশাপাশি সাহাবিদেরও ছাগল দ্বারা কোরবানি করার অনুমতি দিয়েছেন। ফকিহ আলেমদের মতে, গৃহপালিত ও গরু শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় মহিষ দিয়েও কোরবানি করা বৈধ।
### নবীজি নিজ হাতে কোরবানি করতেন
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে কোরবানির পশু জবাই করতেন এবং উট হলে নহর করতেন। (বুখারি: ৫৫৫২)
### কোরবানির সময় নবীজির পদ্ধতি
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “হে আয়েশা, ছুরিটি নিয়ে আসো।” এরপর তিনি বললেন, “এটি পাথরে ঘষে ধারালো করো।” আয়েশা (রা.) বলেন, আমি তা করলাম। এরপর তিনি ছুরি হাতে নিয়ে দুম্বাটিকে কাত করে শুইয়ে বললেন, “বিসমিল্লাহ। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ, মুহাম্মদের পরিবার এবং তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে এ কোরবানি কবুল করুন।” এরপর তিনি পশুটি জবাই করেন। (আবি দাউদ: ২৭৯২)
### নবীজি কোরবানির গোশত ভক্ষণ করতেন
রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির গোশত নিজেও খেতেন এবং পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও অসহায় মানুষদের মাঝেও তা বণ্টন করতেন। একইসঙ্গে তিনি তাঁর উম্মতকেও এ ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন। (আউনুল মাবুদ: ৭/৩৪৫)
### কোরবানির গোশত বণ্টনের পদ্ধতি
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির গোশতের এক-তৃতীয়াংশ পরিবারকে খাওয়াতেন, এক-তৃতীয়াংশ প্রতিবেশীদের দিতেন এবং অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ গরিব ও ভিক্ষুকদের মাঝে সদকা করতেন। (আল-মুগনি: ৯/৪৪৯)









