রাজনীতি

সংসদে জুলাই সনদের আলোচনাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল

  প্রতিনিধি ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ৭:১১:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদ। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় ‘জুলাই সনদ’ এবং গণ-অভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব দাবি ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও হট্টগোল দেখা দেয়।

গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি ‘জুলাই সনদ’ বিষয়ক বিতর্কের কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য দিলে বিরোধী দলীয় বেঞ্চ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে এই ঘটনা ঘটে।

মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, সংসদের প্রথম দিন থেকেই ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যদি জুলাই আন্দোলনকে একক অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে চান, তাহলে তা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক। সেখানে আমরাও অংশ নিয়েছিলাম, আমাদেরও ৪০০-র বেশি সহযোদ্ধাকে আমরা হারিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং আরও একটি দলের হাতে ৭১ সালের রক্তের দাগ থাকলেও বিএনপি একমাত্র দল, যাদের হাতে এমন কোনো রক্তের দাগ নেই। বিরোধী দলের সদস্যদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমাদের ১৭ বছরের রাজপথের সংগ্রামের সামনে তিন-চার বছরের হুংকার তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না।

মঞ্জুরুল করিম রনির এই বক্তব্যের পরপরই বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে একযোগে প্রতিবাদ জানান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম ফ্লোর নিয়ে উচ্চস্বরে বলেন, যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে, সেই জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনাকে ‘আননেসেসারি’ (অপ্রয়োজনীয়) বলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জুলাই সনদকে খাটো করা মানে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং শহীদদের রক্তের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা। তার এই বক্তব্যের সময় সংসদে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক হইচই ও বাকবিতণ্ডা শুরু হলে অধিবেশন কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সদস্যদের শান্ত করেন।

আরও খবর

Sponsered content