রাজনীতি

সংসদে জামায়াত আমির,আমাকে নিয়ে সবাই কচলায়

  প্রতিনিধি ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৭:৫৩:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে একসময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

‘জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার ঘোষণা’—এই শিরোনামের একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সূচনা ঘটে। একপর্যায়ে নিজের বিরুদ্ধে আসা রাজনৈতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা রসিকতার সুরে বলেন, ‘সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে তো! তাই আমাকে নিয়ে কচলায় সবাই।’

মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে আন্দালিভ রহমান পার্থ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের কাটিং হাতে নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বিরোধী দলের নানা হুমকিমূলক বক্তব্যের সমালোচনা করে কয়েকটি শিরোনাম পড়ে শোনান। এর মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্য হিসেবে প্রচারিত শিরোনামগুলোর মধ্যে ছিল— ‘বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে’, ‘বিড়ালের মতো বাঁচতে চাই না, সিংহের মতো বাঁচতে চাই’, ‘সংস্কার পিছিয়ে গেলে গণ–অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি হবে’ এবং ‘জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার ঘোষণা।’

এই পর্যায়ে পার্থ হেসে মন্তব্য করেন, গত ১৬ বছর জিয়া পরিবার থেকে মুক্ত করতে গিয়ে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে পালিয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘জিয়া পরিবার এখন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ধারক-বাহক হিসেবে বিবেচিত। তারা বলেছে, আওয়ামী লীগকে সরাতে ১৬ বছর সময় লেগেছিল, কিন্তু আপনাদের (বিএনপি) সরাতে ১৬ দিনও লাগবে না।’

পার্থের এমন বক্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যরা একযোগে প্রতিবাদে সরব হলে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার হাতুড়ি বাজিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘পড়ছি মছিবতে। সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে তো! তাই আমাকে নিয়ে কচলায় সবাই।’ তিনি পার্থের আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি কখনও জিয়া পরিবার কিংবা শেখ হাসিনার পরিবার নিয়ে এ ধরনের অশালীন মন্তব্য করেননি। নিজের বক্তব্যের সঠিকতা বজায় রাখতে তাঁর নামে ভুলভাবে উদ্ধৃতি না দেওয়ার জন্যও তিনি অনুরোধ জানান।

জবাবে আন্দালিভ রহমান পার্থ স্পষ্ট করেন যে, তিনি সরাসরি বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ করেননি; বরং উক্ত মন্তব্যটি এনসিপির এক নেতার ছিল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যদিও তিনি বক্তব্যের শুরুতে ১১-দলীয় জোট ও বিরোধীদলীয় নেতার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন, তাঁর হাতে থাকা সংবাদ কাটিংগুলোতে বিভিন্ন ব্যক্তির মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল-বোঝাবুঝি এবং বর্তমান ডিজিটাল যুগে কাউকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দোষারোপ করা সহজ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে কোনো বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যথাযথ ও নির্ভুল রেফারেন্স দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনার একপর্যায়ে আন্দালিভ রহমান পার্থ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই খাতে শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে এবং কুইক রেন্টাল প্রকল্পের মাধ্যমে দেশকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিচার বিভাগ ও আমলাতন্ত্রের দলীয়করণের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের মতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর রায়ও হয়তো গণভবনের কোনো করিডর থেকেই নির্ধারিত হয়েছিল। এছাড়া বিসিএস পরীক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাব ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও উত্থাপন করেন তিনি।

অন্যদিকে আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বিএনপির কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সেগুলোকে ‘আত্মঘাতী’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একজন ঋণখেলাপি ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া দেশের নাজুক অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content