জাতীয়

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা : প্রস্তুতিতে ইসি

  নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল ডেক্স ৭ জুলাই ২০২৬ , ১২:৪১:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা, প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা

আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সমন্বয় সম্পন্ন হলে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব বলে মনে করছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীর নির্বাচন ভবনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় শুরু হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

তিনি জানান, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব পর্যায়ের নির্বাচন বাকি রয়েছে। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী এসব নির্বাচন যথাসময়ে সম্পন্ন করা জরুরি। সে লক্ষ্যেই কমিশন অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

কোন নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে এখনও কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান রহমানেল মাছউদ। তবে প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনায় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়েই কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তার ভাষ্য, উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই দুটি ধাপ আগে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচনের সময় নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব, বর্ষা মৌসুম, বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থা ও যোগাযোগব্যবস্থাসহ নানা বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। সব দিক পর্যালোচনা করেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার জানান, এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কমিশনের কাছে কোনো চিঠি আসেনি। তবে নিজস্ব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। সরকারিভাবে সমন্বয় শুরু হলে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা অর্জন করবে কমিশন।

স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করতে কত সময় লাগতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজন করতে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আচরণবিধির খসড়া ইতোমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।

সংশোধিত বিধিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথাও জানান তিনি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে না। একই সঙ্গে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টারবিহীন প্রচারণার বিষয়টিও বহাল থাকবে।

বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার সদস্যদের দায়িত্বে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক ধাপে ধাপে ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী পর্যায়ের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে রহমানেল মাছউদ বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম ওই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই মান বজায় রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ আন্তরিক থাকবে। এজন্য রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারদের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে তুলনামূলক বেশি সংঘাত ও সহিংসতা দেখা গেছে। এবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশন বিশেষ নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও খবর

Sponsered content