নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল ডেক্স ১৪ জুন ২০২৬ , ৩:৫৪:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ
আজ ১৪ জুন, বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালনের আহ্বান জানিয়ে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষায় অবদান রাখা রক্তদাতাদের সম্মান জানানো এবং সাধারণ মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করাই এ দিবসের মূল লক্ষ্য।

১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যে কোনো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তি, যার ওজন কমপক্ষে ৪৫ কেজি, তিনি প্রতি চার মাস অন্তর নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। তবে রক্তদানের ক্ষেত্রে কিছু স্বাস্থ্যগত শর্ত পূরণ করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করতে রক্তদাতার শরীরে অন্তত পাঁচটি রক্তবাহিত রোগের উপস্থিতি নেই—এ বিষয়টি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয়। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, এইচআইভি (এইডস ভাইরাস), ম্যালেরিয়া এবং সিফিলিস। প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিংয়ের পর এসব রোগের অস্তিত্ব না পাওয়া গেলে তবেই সেই রক্ত রোগীর শরীরে সঞ্চালন করা যায়।
এ ছাড়া রক্তদাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ এবং ক্রসম্যাচিং করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রক্তদাতা রক্তদানের জন্য উপযুক্ত কি না তা নিশ্চিত করতে তার ওজন, শরীরের তাপমাত্রা, নাড়ির গতি, রক্তচাপ এবং রক্তস্বল্পতা আছে কি না, সেসব বিষয়ও পরীক্ষা করা হয়।
রক্ত মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত থাকলে মানুষ থাকে কর্মক্ষম, প্রাণবন্ত ও সুস্থ। অন্যদিকে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটে।
বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, নিয়মিত রক্তদান উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো জটিল রোগের আশঙ্কাও হ্রাস পায়। এছাড়া রক্তদানের ফলে অস্থিমজ্জা নতুন রক্তকণিকা উৎপাদনে সক্রিয় হয়, যা শরীরের স্বাভাবিক রক্ত উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করে।
তিনি আরও বলেন, রক্তদানের সময় বিভিন্ন সংক্রামক রোগের উপস্থিতি শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর মাধ্যমে রক্তদাতা নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তদান রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যাদের শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমার প্রবণতা রয়েছে, তাদের জন্য রক্তদান উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

















