নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল ডেক্স ২৮ মে ২০২৬ , ৩:০৬:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
ইসরায়েলের টানা বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণের মধ্যেও পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করছেন অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা। একই সময়ে কঠোর নিরাপত্তা ও বিধিনিষেধের মধ্যে বুধবার (২৭ মে) অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে সীমিত সংখ্যক মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী ইব্রাহিমি মসজিদের বিভিন্ন ফটক বন্ধ করে দেয় এবং প্রবেশপথে মুসল্লিদের ব্যাপক তল্লাশি চালায়। এতে মসজিদে প্রবেশে দীর্ঘ বিলম্ব সৃষ্টি হলে অনেক মুসল্লি বাধ্য হয়ে অন্য মসজিদে নামাজ আদায় করতে চলে যান। পরে নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লির সংখ্যা প্রায় ৩০০ জনে সীমাবদ্ধ থাকলে মসজিদের আশপাশে শব্দবোমা নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি সেনারা, যা উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
হেব্রনের গভর্নর খালেদ দুদিন আনাদোলুকে বলেন, ঈদুল আজহা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলেও দখলদার বাহিনী ইব্রাহিমি মসজিদের ফটক বন্ধ করে দেয় এবং মুসল্লিদের লক্ষ্য করে শব্দবোমা ছোড়ে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এবার ঈদের জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও কম ছিল। মসজিদের ভেতরের এমন পরিস্থিতিকে তিনি ‘ধর্মীয় নিপীড়ন ও ধর্মীয় সন্ত্রাসের বহিঃপ্রকাশ’ বলে উল্লেখ করেন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের জামাতে নামাজ আদায়
অন্যদিকে, পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলের শহর বেথলেহেমের কেন্দ্রীয় ম্যাঙ্গার স্কয়ারে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন ফিলিস্তিনিরা।
নামাজ শেষে বেথলেহেমের মুফতি শেখ আব্দুল মজিদ আমারনাহ আনাদোলুকে বলেন, ‘এবারের ঈদুল আজহার মূল বার্তা হচ্ছে—সব ধরনের দমন-পীড়ন ও ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও এই জাতিকে নিশ্চিহ্ন করা বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ফিলিস্তিনি জনগণ অসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা তাদের অবস্থানে অটল থাকবে।

ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরেও সেনাবাহিনী ও দখলদার গোষ্ঠীর হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফিলিস্তিনি সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬০০ জনের বেশি এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ।

















