রাজনীতি

ব্যর্থতা ঢাকতে ছাত্রদলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে সরকার: (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম

  প্রতিনিধি ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ৪:৩৫:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সরকার ও ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) গভীর রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেন।

সাদিক কায়েম তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, কূটনৈতিক দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতা ঢাকতেই তারা ছাত্রদলের লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে রামদা ও চাপাতি নিয়ে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং ভুয়া স্ক্রিনশট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও হত্যাচেষ্টার মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় তিনি জানান, একটি ফেসবুক স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়, যা পরবর্তীতে ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানাতে শাহবাগ থানায় গেলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, উবায়দুর রহমান হাসিবসহ ডাকসু ও হল সংসদের কয়েকজন নেতা ছাত্রদলের হামলার শিকার হন। এ হামলায় মুসাদ্দিক, জুবায়ের, আলভি, সাদিক, জুমা ও সালমাসহ একাধিক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১৬ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক ছাত্রদলের দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এ পরিস্থিতিতে পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছে সহায়তা চেয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনাকে তিনি শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার একটি পূর্বপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সবশেষে, সাদিক কায়েম সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ছাত্রদলের এ ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড অদূর ভবিষ্যতে তাদের জন্যই বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে এবং বর্তমান প্রজন্ম ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী বা অস্ত্রনির্ভর রাজনীতি মেনে নেবে না।

আরও খবর

Sponsered content