জাতীয়

এবারের ঈদুল আজহায় দেশে প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদমন্ত্রী।

  নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল রিপোর্ট ২৬ মে ২০২৬ , ৯:২৮:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা নগরীর নেউরা পশুর হাট পরিদর্শনকালে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: সংগৃহীত

এবারের ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাট আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় দেশে প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) কুমিল্লা নগরীর নেউরা কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক খামারি থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতা—সবাই যেন নিরাপদ পরিবেশে পশু কেনাবেচা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও চাঁদাবাজি, অনিয়ম কিংবা নিরাপত্তাহীনতার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে বাজারে অবৈধভাবে আনা কোনো পশুও চোখে পড়েনি বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম, জাল টাকা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ বলেন, ঈদের বাজার এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তবে এবারের ঈদে সারাদেশে প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, কোরবানিকে ঘিরে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে এবং লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

হাট পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী ভেটেরিনারি টিমের বুথ থেকে মাইকিং করে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উদ্দেশে বলেন, কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে তারা যেন দ্রুত সংশ্লিষ্ট বুথে যোগাযোগ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশু পালন প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের জন্য বছরের অন্যতম বড় আয়ের উৎস। দেশের অসংখ্য পরিবার পশু লালন-পালন ও বিক্রির মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু কোরবানি হয়, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোরবানির আয়োজন হিসেবে বিবেচিত। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক ও খামারিরা দীর্ঘ সময় ধরে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ লালন-পালন করেন, যা তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতার বড় সুযোগ তৈরি করে।

পরে মন্ত্রী হাটের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং পশু ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এ সময় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর

Sponsered content