প্রতিনিধি ২ মে ২০২৬ , ৮:২৬:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ
ইরানি তেল আমদানির অভিযোগে চীনের পাঁচটি তেল শোধনাগারের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা কার্যকর হওয়া ঠেকাতে বেইজিং একটি আইনি নির্দেশনা (ইনজাংশন) জারি করেছে।

শনিবার (২ মে) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।
চীন সরকারের দাবি, ওয়াশিংটনের এই একতরফা নিষেধাজ্ঞা ‘আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতির’ সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর ফলে তেহরানের তেল আয় বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র যে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে, তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে পাঁচটি শোধনাগারের নাম উল্লেখ করেছে, সেগুলো হলো—হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারি এবং তথাকথিত ‘টি-পট’ শোধনাগার হিসেবে পরিচিত শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শৌগুয়াং লুচিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংক্সিং কেমিক্যাল।
এর মধ্যে গত এপ্রিল মাসে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সরাসরি হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা ইরান থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর তালিকাভুক্ত বাকি চারটি শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের জবাবে চীন সরকার সরাসরি আইনি সুরক্ষার পথ বেছে নিয়েছে। বেইজিংয়ের মতে, একটি সার্বভৌম দেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যখন উত্তেজনা তীব্র এবং জ্বালানি বাজার অস্থির, তখন চীনের এই অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইনজাংশনের ফলে মার্কিন ডলারনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ইরানি তেলের বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ আরও প্রসারিত হলো। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ নীতির বিপরীতে বেইজিংয়ের একটি দৃঢ় প্রতিক্রিয়া।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অন্যতম প্রধান জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। পেন্টাগন ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, ইরানের অর্থনীতি সচল রাখতে চীনের এই বিপুল তেল আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে চীন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে আরোপিত কোনো নিষেধাজ্ঞা মানতে তারা বাধ্য নয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সামনের দিনে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীন তার নিজস্ব শোধনাগারগুলোর সুরক্ষা অব্যাহত রাখবে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

















