সারাদেশ

জরাজীর্ণ আবহাওয়া অফিসে নেই দরজা-জানালার অস্তিত্ব

  প্রতিনিধি ৯ মে ২০২৬ , ১২:৪০:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ

পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে। ছবি: ইত্তেফাক দীর্ঘদিন নজরদারি না থাকায় ভবনের দরজা, জানালা ও গ্রিল চুরি হয়েছে।

ভাঙাচোরা ভবন, জরাজীর্ণ সীমানাপ্রাচীর এবং কার্যালয়ের ভেতরে মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ—প্রথম দেখায় যে কেউ একে পরিত্যক্ত কোনো আবাসিক এলাকা মনে করতে পারেন। অথচ এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি স্থাপনা, ঈশ্বরদীতে অবস্থিত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কার্যালয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত একটি পাইলট বেলুন পর্যবেক্ষণাগার হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর এলাকার ভেতরে প্রায় ৫ একর জায়গাজুড়ে ১৯৬৫ সালে সরকারি উদ্যোগে এই পর্যবেক্ষণাগার গড়ে তোলা হয়। সে সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য একাধিক আবাসিক ভবন ও পৃথক পর্যবেক্ষণাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো এলাকাটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে পরিবেশে পরিণত হয়েছে। তদারকির অভাবে ভবনগুলোর দরজা-জানালা এমনকি জানালার গ্রিল পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে।

এদিকে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত দুটি যন্ত্রের মধ্যে একটি বহুদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে মাত্র একটি যন্ত্র দিয়েই কোনোমতে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনগুলো এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। দিন-রাত সেখানে স্থানীয় ও বহিরাগতদের আনাগোনা থাকে এবং চলে নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড।

আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, ভারত থেকে আনা অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন (অ্যাওয়াস) স্থাপন করা হলেও সেটি একদিনের জন্যও সচল করা সম্ভব হয়নি। নির্জন এলাকায় অফিস হওয়ায় এবং কোনো নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় রাতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। এছাড়া জনবল সংকটের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিন-রাত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হলেও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় না।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, “১৪ জনের অনুমোদিত জনবলের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে সবাইকে বাড়তি চাপ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। আবাসিক ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় সেখানে ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভবনগুলোর দরজা-জানালাও অনেক আগেই চুরি হয়ে গেছে।”

আরও খবর

Sponsered content