নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল রিপোর্ট ২৪ মে ২০২৬ , ১১:৪৫:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার কন্যার সঙ্গে ছাত্রদল নেতার বিবাহ অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব। ঘটনাটি বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) কালীগঞ্জ উপজেলার বগেরগাছি গ্রামে আয়োজিত ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম তুলির সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহর বিয়ে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন জামায়াতের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব।
এছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত—তিন রাজনৈতিক ধারার একাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তবিবুর রহমান মিনি, জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিজু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান ওদু, আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেনসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে শিবির কর্মী হত্যা মামলার আসামি ও রাখালগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মন্টুকে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে দেখা যায়। এ সময় সংসদ সদস্য আবু তালিবকে তাকে নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করতেও দেখা যায়—এমন কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক কর্মী মন্তব্য করে বলেন, শিবির কর্মী হত্যা মামলার আসামির মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বিব্রতকর।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ কালীগঞ্জ মাহতাব উদ্দিন কলেজের পূর্ব গেট এলাকা থেকে শিবির কর্মী শামীমকে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে একই বছরের ১৩ এপ্রিল যশোর সদর উপজেলার লাউখালী গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকা থেকে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিহত শামীমের বাবা রুহুল আমিন কালীগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মহিদুল ইসলাম মন্টুসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব বলেন, রাখালগাছি ইউনিয়নে তার গ্রামের বাড়ি থাকায় সামাজিক সম্পর্কের কারণেই তিনি ওই বিয়েতে অংশ নেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, মামলার ভুক্তভোগী পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

















