সারাদেশ

সন্তানের জন্য বাবার কাছে বাবার জীবন মূল্যহীন, ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা

  প্রতিনিধি ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:০৪:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ

২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা,ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ঘটে গেছে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও বিস্ময়কর ঘটনা, যার সাক্ষী হয়েছেন শত শত মানুষ। মৃত্যুর একেবারে কাছাকাছি গিয়েও এক বাবা অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেন—নিজের সন্তানকে বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেললাইনের ওপর নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুয়ে থাকেন। তার ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যাওয়ার পরও অবিশ্বাস্যভাবে বাবা ও সন্তান দুজনকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ভৈরব স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা দ্রুত দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি গ্রামের ওই দম্পতি তাদের দুই বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে, দুপুর আড়াইটার দিকে স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেনে ওঠার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে মা ও শিশু প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝখানের সংকীর্ণ ফাঁকে পড়ে যান।

সংকীর্ণ সেই জায়গা থেকে মা কোনোভাবে দ্রুত প্ল্যাটফর্মে উঠতে পারলেও শিশুটিকে ওপরে তুলতে পারেননি। ঠিক তখনই ট্রেন ছাড়ার সংকেত বেজে ওঠে। সন্তানকে নিচে রেখে ট্রেন চলতে শুরু করতে দেখে বাবা এক মুহূর্ত দেরি না করে ঝাঁপ দেন নিচে।

চোখের পলকে তিনি শিশুটিকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে লাইনের পাশে স্থির হয়ে শুয়ে পড়েন। একের পর এক ট্রেনের বগি তাদের ওপর দিয়ে চলে যাওয়ার সময় প্ল্যাটফর্মে থাকা মানুষজন আতঙ্কে চোখ বন্ধ করে প্রার্থনায় মগ্ন হয়ে পড়েন।

ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর দেখা যায়, বাবা ও সন্তান দুজনই সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় রেললাইনের ওপর পড়ে আছেন। পরে উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।

তিতাস ট্রেনের টিকিট বিক্রেতা ফালু মিয়া জানান, বাবার সামান্য নড়াচড়া হলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তার অসীম ধৈর্য, স্থিরতা ও সন্তানের প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখে সবাই বিস্মিত হয়ে যান।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রেনটি দেরিতে আসায় প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত ভিড় ছিল, আর সেই ভিড়ের মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে আতঙ্কিত ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে রেলওয়ে থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ জানান, বড় ধরনের বিপদের মুখোমুখি হলেও তাদের শরীরে কোনো গুরুতর আঘাত পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তারা ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় ঢাকায় না গিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জানা গেছে, তারা কটিয়াদীর লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা; তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আরও খবর

Sponsered content