সারাদেশ

মধ্যরাতে যাত্রীবাহী বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে , নিহত ১ জন

  প্রতিনিধি ৪ মে ২০২৬ , ১:০৮:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেছে। এতে বাসটির এক স্টাফ নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাউফল-ঢাকা মহাসড়কের আফসার গ্যারেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী দশমিনা উপজেলা থেকে ছেড়ে আসা ‘বাউফল ট্রাভেলস’-এর একটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। বাসটি আফসার গ্যারেজ এলাকায় পৌঁছালে অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাসটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের এক স্টাফ নিহত হন। দুর্ঘটনার সময় তার কোমরের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। বাসটিতে প্রায় ২৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান স্বপন বলেন, এ রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর নিচের বক্সে অতিরিক্ত মালামাল বহন করা হয়, ফলে গাড়ির ওজন বেড়ে যায় এবং চালকের জন্য নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তার ধারণা, অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনই দুর্ঘটনার একটি কারণ হতে পারে। তিনি আরও জানান, কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে শোনা গেছে, দুর্ঘটনার সময় চালক মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন এবং বাসটির গতি বেশি ছিল, যা নিয়ন্ত্রণ হারানোর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বাসটিতে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী ছিলেন। তিনি বলেন, একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তার পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content