নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল রিপোর্ট ৮ আগস্ট ২০২৬ , ১২:৪৮:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ
দুর্নীতি কমাতে এমপিদের ৫ লাখ ও মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা বেতনের প্রস্তাব নুরের

সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের জন্য বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তার মতে, দুর্নীতি কমানো এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫ লাখ টাকা এবং মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা উচিত।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মূল বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন ভাতা যুক্ত হলে মাসিক প্রাপ্তি দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মন্ত্রীদের বেতনও প্রায় একই পর্যায়ের। কিন্তু নির্বাচনী এলাকায় চিকিৎসা, শিক্ষা, খেলাধুলা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে গিয়ে জনপ্রতিনিধিদের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যমান বেতন কাঠামো যথেষ্ট নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধির নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাদের জন্য বর্তমান বেতনে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে কেউ কেউ অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
জনপ্রতিনিধিদের যাতায়াতের বিষয়েও বক্তব্য দেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে সংসদ সদস্যদের প্রায়ই নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু দেশের অনেক অঞ্চলের সড়কব্যবস্থা এখনও উন্নত নয়। নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় মানের গাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক এমপির নেই।
এ প্রেক্ষাপটে তিনি প্রস্তাব করেন, একজন সংসদ সদস্য দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত সরকারের দেওয়া একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন এবং মেয়াদ শেষে সেটি সরকারি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের মতো সংসদ সদস্যদের জন্যও এ ধরনের সুবিধা চালুর পক্ষে মত দেন তিনি।
আলোচনার একপর্যায়ে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ দুটিতে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উপযুক্ত বেতন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের করমুক্ত গাড়ি আমদানি ও প্লট বরাদ্দের মতো কিছু সুবিধা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে একটি সরকারি গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে, যা পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে সরকারি পরিবহন পুলে ফেরত দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে নতুন পে-স্কেল নিয়েও কথা বলেন নুরুল হক নুর। তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সরকারি সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, জবাবদিহি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।
প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। এ কার্ডধারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার সুবিধা পাবেন।











