প্রতিনিধি ৫ মে ২০২৬ , ৬:৩২:২২ প্রিন্ট সংস্করণ
ইসলামে কোরবানি এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত। এটি কেবল পশু জবাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা। পবিত্র কুরআনে নামাজের পাশাপাশি কোরবানির নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে—

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
“অতএব তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় কর এবং কোরবানি সম্পাদন কর।” (সুরা কাওসার: আয়াত ২)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَالۡبُدۡنَ جَعَلۡنٰهَا لَکُمۡ مِّنۡ شَعَآئِرِ اللّٰهِ لَکُمۡ فِیۡهَا خَیۡرٌ فَاذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰهِ عَلَیۡهَا صَوَآفَّ فَاِذَا وَجَبَتۡ جُنُوۡبُهَا فَکُلُوۡا مِنۡهَا وَ اَطۡعِمُوا الۡقَانِعَ وَ الۡمُعۡتَرَّ کَذٰلِکَ سَخَّرۡنٰهَا لَکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ لَنۡ یَّنَالَ اللّٰهَ لُحُوۡمُهَا وَ لَا دِمَآؤُهَا وَ لٰکِنۡ یَّنَالُهُ التَّقۡوٰی مِنۡکُمۡ ؕ کَذٰلِکَ سَخَّرَهَا لَکُمۡ لِتُکَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰی مَا هَدٰىکُمۡ وَ بَشِّرِ الۡمُحۡسِنِیۡنَ
‘আর কোরবানির উটগুলোকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি; এতে তোমাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। অতএব, যখন সেগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন তোমরা সেগুলোর ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর। পরে যখন সেগুলো কাত হয়ে পড়ে যায়, তখন তা থেকে নিজেরাও খাও এবং অভাবগ্রস্ত—যারা কারও কাছে চায় না এবং যারা চেয়ে বেড়ায়—উভয়কেই খেতে দাও। এভাবেই আমি সেগুলোকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আল্লাহর কাছে এগুলোর গোশত বা রক্ত পৌঁছে না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করেছেন, যাতে তোমরা তাঁর দেওয়া হিদায়াতের জন্য আল্লাহর তাকবির ঘোষণা করো। আর তুমি সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা হজ: আয়াত ৩৬-৩৭)
কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার জন্য পশুটি অবশ্যই দোষ-ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ, কোরবানির জন্য নির্বাচিত পশুর মধ্যে কোনো গুরুতর শারীরিক ত্রুটি থাকা চলবে না। বরং গুণগত দিক থেকে উত্তম হলো—পশুটি হবে সুন্দর, সুস্থ-সবল, ত্রুটিমুক্ত এবং হৃষ্টপুষ্ট; যা দেখলেই পছন্দ হয়।
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) শিংযুক্ত ও মোটাতাজা একটি মেষ কোরবানি করেছিলেন, যার চেহারা, পা এবং চোখে ছিল কালো আভা। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৮)
যেসব ত্রুটির কারণে কোরবানি সহীহ হবে না:
১. **সম্পূর্ণ অন্ধ পশু**
যে পশু একেবারেই দেখতে পায় না, তা কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
২. **পঙ্গু বা খোঁড়া পশু**
যে পশু স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে অক্ষম বা পায়ে গুরুতর সমস্যা রয়েছে, তা দিয়ে কোরবানি করা যাবে না।
৩. **গুরুতর আহত বা অঙ্গভঙ্গ পশু**
যে পশুর শরীরের কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে পশু কোরবানির উপযুক্ত নয়।
৪. **দাঁতহীন পশু**
যদি পশুর অধিকাংশ দাঁত পড়ে গিয়ে খাবার চিবাতে না পারে, তবে তা কোরবানির জন্য উপযোগী নয়।
৫. **শিং গোড়া থেকে ভাঙা**
শিং যদি গোড়া থেকে ভেঙে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে, তাহলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি করা শুদ্ধ হবে না। তবে আংশিক ভাঙা বা জন্মগতভাবে শিং না থাকলে সমস্যা নেই।
৬. **লেজ বা কানের বড় অংশ কাটা**
যদি লেজ বা কানের অর্ধেক বা তার বেশি অংশ কাটা থাকে, তবে সে পশু কোরবানির জন্য অযোগ্য। তবে জন্মগতভাবে ছোট বা আংশিক ভিন্নতা থাকলে তা গ্রহণযোগ্য।
কোরবানি নিছক একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যেখানে শুদ্ধতা ও শরিয়তের বিধান মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। তাই পশু কেনার সময় এসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা উচিত, যাতে কোরবানি সঠিকভাবে আদায় হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।










