নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল ডেস্ক ১২ মে ২০২৬ , ৪:৩৬:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে তৎকালীন বিএনপি সরকার প্রথমবারের মতো পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। এবার বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবনার নথি অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে সৃষ্ট পানির সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি প্রস্তুত করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমীক্ষার পর এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।
প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ব্যারাজে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস এবং দুটি ফিশ পাশ। এই ব্যারাজের মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সংরক্ষিত পানি বণ্টনের জন্য নির্মাণ করা হবে তিনটি অফটেক অবকাঠামো। পাশাপাশি এখানে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী—এই পাঁচটি নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প নথিতে আরও বলা হয়েছে, বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে বছরে প্রায় ২৪ লাখ টন ধান এবং ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যেতে পারে।

















