জাতীয়

৫৩৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সালমান-শায়ানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

  নির্ভীক কন্ঠ : ডিজিটাল রিপোর্ট ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৯:৪৪:০২ প্রিন্ট সংস্করণ

বামে সালমান এফ রহমান ও তার ছেলে আহমেদ শায়ান। ছবি: সংগ্রহীত

আইএফআইসি ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে নেওয়া ঋণকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগের অনুসন্ধান করা হয়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই না করেই নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের নামে তিন দফায় মোট ৫৪৫ কোটি টাকার ওভারড্রাফট (ওডি) ঋণ অনুমোদন করা হয়।

এর মধ্যে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা নগদ উত্তোলন ও বিভিন্ন স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক। সংস্থাটির দাবি, অর্থের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য গোপন রাখতে নগদ উত্তোলন, স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচার করা হয়।

সালমান এফ রহমান আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ব্যাংকটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। মামলার অন্যদের মধ্যে স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল-মনজুর, পরিচালক ইশরাত জাহান এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন পরিচালক ও কর্মকর্তা রয়েছেন।

দুদকের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট স্কাইমার্কের অনুকূলে প্রথমে ৯০ কোটি টাকার ওডি ঋণসীমা অনুমোদন করা হয়। পরের বছর ১০ জানুয়ারি তা বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ২৫ জুন ঋণসীমা আরও বাড়িয়ে ৫৪৫ কোটি টাকা করা হয়।

দুদকের অভিযোগ, শেষ দফায় ঋণসীমা বাড়ানোর সময় ৬৫০ শতাংশ জমি বন্ধক নেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও তা স্থগিত রাখা হয়। পরে ওই বন্ধক আর সম্পন্ন হয়নি।

অনুসন্ধানে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে জানিয়েছে দুদক। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুদাম পরিদর্শন করা হয়নি। উদ্যোক্তাদের পরিচিতি ও কেওয়াইসি, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ-দায়, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং আয়কর পরিশোধের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। একই সঙ্গে ঋণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, আগের ঋণের ব্যবহার এবং ঋণসীমা বাড়ানোর যৌক্তিকতাও যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

দুদকের হিসাবে, ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত ওই ঋণের বিপরীতে সুদ ও অন্যান্য চার্জের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৯৪ টাকা ৩ পয়সা। ওই দিন ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়ায় ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা ৩ পয়সা। এই অর্থকে আইএফআইসি ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছে দুদক।

এদিকে সালমান এফ রহমান ও আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ১৪টি ‘ভুয়া ও কাগুজে’ প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৭ হাজার ১২৯ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক। স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের নামে নেওয়া ৫৩৮ কোটি টাকার ঋণের বিষয়টি সেই অনুসন্ধানেরই একটি অংশ।

দুদকের অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অভিযোগগুলো এখন আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content