সারাদেশ

মা-মেয়েসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা “ফরিদপুর

  প্রতিনিধি ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ৮:১৫:০০ প্রিন্ট সংস্করণ

ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নে এক যুবকের কোদালের আঘাতে তার দাদি, ফুপু ও এক প্রতিবেশীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত প্রায় দশটার দিকে গদাধরডাঙ্গী গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম আকাশ মোল্লা (৪০)। তিনি ওই এলাকার হারুন মোল্লার ছেলে এবং ফরিদপুর যক্ষ্মা হাসপাতালের পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই আকাশ পলাতক রয়েছেন।

এই ঘটনায় নিহতরা হলেন আকাশের দাদি আমেনা বেগম (৭৫), ফুপু সালেহা বেগম (৫৫) এবং প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরী (৪৯)।
জানা গেছে, আকাশ যখন তার দাদি ও ফুপুকে আক্রমণ করছিলেন, তখন তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরী। এ সময় ঘাতক আকাশ তাকেও পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। এছাড়া রিয়াজুল ইসলাম নামের আরেক প্রতিবেশী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. রাজ্জাক শেখ জানান, আকাশ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। মাঝে মাঝে তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটত, তখন তিনি হাসপাতালে যেতেন না। তবে অন্য সময় তিনি স্বাভাবিক আচরণ করতেন। মূলত মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই তাকে বিয়ে দেওয়া হয়নি বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি। জনস্বাস্থ্য বিভাগে তার চাকরিটিও এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পাওয়া।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘাতক আকাশকে গ্রেপ্তারের জন্য চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হত্যার পেছনের নির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, রাত প্রায় পৌনে বারোটার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content