সারাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টিকে দাফন করা হলো দাদা-দাদির কবরের পাশে

  প্রতিনিধি ৯ মে ২০২৬ , ৭:৩৩:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ

শেষ বিদায়ের মুহূর্তে কবরে নামানো হচ্ছে বৃষ্টির মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। কিন্তু জীবনের সেই স্বপ্নযাত্রা শেষ হলো মর্মান্তিক পরিণতিতে। তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে খুন হন তিনি। শনিবার (৯ মে) তার খণ্ডিত মরদেহ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে পৌঁছালে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

শনিবার সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃষ্টির মরদেহ পৌঁছে। পরে দুপুরে সেটি নিয়ে যাওয়া হয় মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুরে তাদের গ্রামের বাড়িতে। একমাত্র মেয়ের নিথর দেহ একনজর দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও শৈশবের বন্ধুরা। পুরো গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের বিরোধের জেরে গত ১৬ এপ্রিল ক্যাম্পাস থেকে বৃষ্টি ও লিমনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। পরে ৩০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, “সবসময় প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি থাকা মেয়েটির এমন নির্মম পরিণতি আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিল। তাকে লাশ হয়ে ফিরতে হবে, এটা কখনো কল্পনাও করিনি। আমরা এই ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।”

জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশেই বৃষ্টিকে সমাহিত করা হয়। স্বপ্ন আর সম্ভাবনায় ভরা একটি জীবন এভাবেই থেমে গেল অকালে। এখন পরিবারের কাছে বৃষ্টির স্মৃতি মানেই গভীর শোক আর বিচার পাওয়ার অপেক্ষা।

আরও খবর

Sponsered content