রাজনীতি

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে: গোলাম পরওয়ার

  প্রতিনিধি ৯ মে ২০২৬ , ১০:১১:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ

শনিবার নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকার গণভোটের রায় নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চরম বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জনমত নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টাও চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, “একটি প্রবাদ রয়েছে—‘যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ।’ বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিই যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে ঠিক সেই ভূমিকাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে তারা প্রতারণার পথে হাঁটছে।”

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “তারা শুধু জনগণের সঙ্গেই নয়, নিজেদের সঙ্গেও প্রতারণা করছে। নির্বাচনের আগে তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং ভোটও দিয়েছিল। অথচ এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও গণভোটের রায় মানতে চাইছে না। এটি জনগণের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির শামিল।”

উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তাদের দল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধী নয়; বরং ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। তবে উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পক্ষপাতিত্ব কিংবা শুধু সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়াকে তারা সমর্থন করেন না। তার ভাষায়, উন্নয়ন হতে হবে সমতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এলাকায় একযোগে সিটি করপোরেশন, নতুন উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অথচ জাতীয় ও আঞ্চলিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব প্রকল্প দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বণ্টন হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার দাবিও জানান মিয়া গোলাম পারওয়ার। তিনি বলেন, এটি উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এটি।

আরও খবর

Sponsered content