সারাদেশ

যমুনার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলে ভাঙন, নদীগর্ভে গেল ১২০ মিটার ভূমি

  নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল রিপোর্ট ২১ জুন ২০২৬ , ৭:৪৪:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ

যমুনার পানি বাড়ায় সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে শুরু হয়েছে নতুন ভাঙন। ছবি: সংগৃহীত।

যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে আবারও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ পয়েন্টে ইতোমধ্যে প্রায় ১২০ মিটার এলাকা যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গত কয়েক দিন ধরে যমুনার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই।

পাউবোর তথ্যমতে, গত তিন দিনে কাজীপুর পয়েন্টে যমুনার পানি ৪০ সেন্টিমিটার এবং সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে কাজীপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩ দশমিক ২ মিটার এবং সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন হার্ড পয়েন্টে ২ দশমিক ৬৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ ও ধারাবাহিক বৃষ্টির কারণে যমুনার পানি বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনও এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এই দফায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা কম।’

পাউবোর পরিসংখ্যান বলছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত যমুনার পানি অন্তত পাঁচবার ওঠানামা করেছে। পানির এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলে চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলে তীব্র নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে চর সলিমাবাদ এলাকায় পাঁচ থেকে ছয়টি বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। আকস্মিক ভাঙনের কারণে অনেক পরিবারকে তড়িঘড়ি করে নিজেদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে হয়েছে।

ভুক্তভোগী মোবারক হোসেন বলেন, ‘মাত্র এক দিনের ব্যবধানে যমুনা আমার ঘরটা গিলে ফেলেছে। কোনো জিনিসপত্রও বের করতে পারিনি।’

চৌহালী উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মওদুদ আহমেদ সবুজ বলেন, চর সলিমাবাদ পয়েন্টে প্রায় ১২০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। নতুন চর জেগে ওঠার ফলে নদীর মূল স্রোত তীরবর্তী অংশে আঘাত করায় ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ভাঙন ঠেকাতে পাউবো জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলছে, যাতে ক্ষয়ক্ষতি আর বিস্তৃত হতে না পারে।’

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ভাঙন প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রম তদারকির জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

আরও খবর

Sponsered content