সারাদেশ

গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি, আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু

  নির্ভীক কন্ঠ: ডিজিটাল ডেস্ক ১০ মে ২০২৬ , ৯:০০:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ

গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির পুরোনো ছবি, ইনসেটে নিহত সুমন মিয়া

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে সুমন মিয়া নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

রোববার (৯ মে) দেশটির কেজেডএন (কোয়াজুলু-নাটাল) প্রদেশের নিউ ক্যাসেল শহরের অদূরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

নিহত সুমন মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১৩ নম্বর বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মইজ উদ্দিন মিয়ার ছেলে। তার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল দেওয়ান এবং নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাত ভাই-বোনের মধ্যে সুমন ছিলেন সবার ছোট। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় প্রায় ১৪ বছর আগে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। সেখানে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে নিজের নামে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

রোববার ব্যবসায়িক কাজ শেষে মালামাল নিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানে ফেরার পথে বাংলাদেশ সময় বিকেল আনুমানিক সোয়া ৫টার দিকে একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর হামলাকারীরা গাড়িতে থাকা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সুমনের মৃত্যুসংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। তাকে একনজর দেখতে ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাড়িতে ভিড় করছেন এলাকার মানুষ।

নিহত সুমনের পরিবারে স্ত্রী ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পরিবারের কাছ থেকে তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় ওই বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

আরও খবর

Sponsered content