নির্ভীক কন্ঠ : ডিজিটাল ডেক্স ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০:৪০:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি সারা দেশে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরে আত্মশুদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক লিখিত বিবৃতিতে এ কথা জানায় টিআইবি।
এর আগে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শনিবারও বিবৃতি দিয়েছিল সংস্থাটি।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় পুলিশ নয়জনকে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে দরিদ্র মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা সরকারের জন্য বিব্রতকর দৃষ্টান্ত।
বিবৃতিতে ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠছে। বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, কেবল ও ইন্টারনেট ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিজেদের মধ্যেও প্রতিযোগিতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। দৈনিক, মাসিক ও এককালীন চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ঘটে চলা বিভিন্ন ঘটনার ধারাবাহিকতা। তাঁর মতে, এসব ঘটনা সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ ও সদিচ্ছাকে আড়াল করে জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিচয় বা সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারলে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
টিআইবি অবিলম্বে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এসব ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

















